জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে দিশেহারা অসহায় বৃদ্ধা ফজিলা খাতুন

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা

৮০

স্টাফ রিপোর্টার: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে ইটাগাছার ফজিলা খাতুনের বিরুদ্ধে চলছে নানান ষড়যন্ত্র। প্রতিপক্ষসহ স্থানীয় কাউন্সিলরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এসব কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবি করেন অসহায় বৃদ্ধা ফজিলা খাতুন। স্থানীয়রা জানান, ‘বিগত ৫ মাস আগে আব্দুস সাত্তারের ছেলে বাবলু ফজিলা খাতুনের জমিসহ সরকারি জমিতে খুঁটি ও ত্রিপল দিয়ে দখল করে রেখেছে। এ ব্যাপারে ফজিলা খাতুন স্থানীয় কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালুর নিকট বিচারের দাবিতে আবেদন করেন। স্থানীয় কাউন্সিলর বিষয়টি সমাধানের লক্ষে পৌরসভার সার্ভেয়ার দ্বারা মাপ জরিপ করবেন বলে সময় দেন। এই সুযোগে প্রতিপক্ষরা বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং কাউন্সিলর ও ফজিলা খাতুনের সাথে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে নানান পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে আগামী শনিবার বসাবসির দিন ধার্য রয়েছে। তার আগেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এই অসহায় নারীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তুলে স্থানীয় একটি পত্রিকায় ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে। এতে আমরা এলাকাবাসী দারুণভাবে মর্মাহত হয়েছি, কারণ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের কোন প্রশ্নই আসেনা। বরং এলাকার অসহায় দুস্থ মানুষের কল্যাণে তিনি সব সময় নিজ অর্থায়ণে সহযোগিতা করে থাকেন। বিগত ১ বছর যাপত ফজিলা খাতুনের জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিমাসে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই জানান, ‘সাতক্ষীরা পৌরসভার মধ্যে একজন মানবিক, সৎ এবং দক্ষ কাউন্সিলর হিসেবে এলাকার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন পৌর কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু। তার বিরুদ্ধে কোন প্রকার মিথ্যাচার এলাকাবাসী মেনে নিবে না। একই সাথে একজন সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংবাদ লেখার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার দাবী জানান তারা।’ সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ইটাগাছা বৌ বাজার এলাকার মৃত শহর আলী সরদারের স্ত্রী ফজিলা খাতুনের জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে বিচারের নামে পৌর কাউন্সিলনের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার টাকা গ্রহণের যে বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রণোদিত। আমি এ ধরনের কোন বক্তব্য প্রদান করিনি বা এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন ফজিলা খাতুন।’
ইটাগাছা গ্রামের ফজিলা খাতুন জানান, পৌর কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু আমার জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রতিমাসে আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ সব সময় আমাকে নিজের মায়ের মতো দেখেনে। আমিও তাকে সন্তানের মতো দেখি এবং তার কাছে কৃতজ্ঞ। যারা আমার নাম ব্যবহার করে আমাদের প্রিয় পৌর কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালুর বিরুদ্ধে বিরুপ মন্তব্য করছেন, আমি তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ অসুস্থ হয়ে কাউন্সিলর কালুর কাছে গেলে তিনি তাৎক্ষণিক তাদের চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় সকল ঔষধ কিনে দেন। আমাকেও সব সময় তিনি সহযোগিতা করেন।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম বলেন, ৭নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আ.লীগের সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু একজন সমাজসেবক খ্যাত। এলাকার সাধারণ মানুষ তার কাছে সাহায্যের জন্য আসলে খালি হাতে ফেরেন না। আমরা ৭নং ওয়ার্ড আ.লীগের পক্ষ থেকে অপপ্রচারকারীদের প্রতি তীব্র নিন্দা ও শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত একটি বিরোধে ফজিলা খাতুন আমাকে অবহিত করলে আমি তাকে পৌরসভার সার্ভেয়ারের সাথে কথা বলে মাপ জরিপের সময় নিতে বলি। সার্ভেয়ার তাদের সময় অনুযায় আগামী শনিবার সময় নির্ধারন করেন। এর আগেই একটি কুচক্রী মহল সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা অপপ্রচার এবং নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমার ওয়ার্ডের আরো অনেক অসহায় মানুষের মতো ফজিলা খাতুনও আমার আপনজন। আমি সব সময় তাকে আর্থিক সহায়তাসহ পৌরসভার সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ