বৈশ্বিক স্বাভাবিকতা ও ক্রমশ দেশজ সচলতা

ড. আবদুল লতিফ মাসুম

১০০

মহামারী আক্রান্ত গোটা বিশ্ব। অচল পৃথিবীর জনজীবন। তবুও মানুষের জীবনের আকাঙ্খা থেমে নেই। মানুষের জীবনের প্রথম ও প্রধান মৌলিক চাহিদা- খাদ্য। তাই সুকান্ত বলেন, ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি’। মহামারী জীবন কেড়ে নিলেও বাঁচার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্যের প্রয়োজন মেটাবে উপার্জন। উপার্জন তখনই সম্ভব যখন উৎপাদনের ও উপার্জনের উপায়-উপকরণ অব্যাহত থাকবে। উন্নত বিশে^ সমৃদ্ধ অর্থনীতির কারণে সরকার নাগরিকদের ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে পারে, অনেক দিন ধরে। কিন্তু আমাদের মতো গরিব মানুষের দেশে সরকারের সেই সক্ষমতা নেই। যতটুকু আছে তা-ও আবার দলীয় মোড়কে দুর্নীতিগ্রস্ত। তাই বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের পক্ষে অনির্দিষ্টকালের জন্য ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। মানুষ প্রথম দিকে সোৎসাহে গ্রামে গেছে, ঈদের আনন্দ নিয়ে। আবার মাঝখানে ফিরে এসেছে- যাচিত অথবা অযাচিত আহ্বানে। মহামারীর আশঙ্কা অতিক্রম করে তারা বেরিয়ে এসেছে রাস্তায়। কাজের ও খাবার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে তারা। তা হলে বার্তাটি এই- অবরুদ্ধ জীবন তাদের জন্য ধারণযোগ্য নয়। ধারণযোগ্য বা ‘সাসটেইনেবল’ তত্ত্বটি রাজনীতি, সমাজনীতি ও অর্থনীতিতে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য বিষয়। তাই এই মহাদুর্যোগেও ‘ধারণযোগ্য’ বিষয়টি মনে রাখতে হবে। আমরা এমন কোনো বিধি-ব্যবস্থা নিতে পারি না, যা আমাদের জনগণের অনিবার্য প্রয়োজনকে অস্বীকার করে।

আমাদের জনগণের স্বভাব-চরিত্র, মন-মগজ ও জীবনাচারবিরোধী কোনো আরোপিত বিষয় ধারণযোগ্য হবে না। আমাদের গরিব মানুষের খাদ্যের প্রয়োজন যেমন তীব্র, তেমনি তাদের আমুদে-আয়েশি চরিত্র। আপনারা দেখেছেন অকারণেই তারা রাস্তায় ভিড় জমায়। জীবনের ঝুঁকি সম্পর্কে তারা বেখবর ও বেহাল। পাশ্চাত্যের জনজীবন বেহাল তাদের বেপরোয়া যাপিত জীবনের জন্য। আর আমাদের জনজীবন বেহাল জীবনের অস্তিত্বের জন্য। যার পেটে ভাত নেই তার কাছে চাঁদের কিরণ অতি ¯িœগ্ধ নয়। পাশ্চাত্যের জীবন ভোগ ও লালসা ব্যতীত একান্তই পানসে। পরিসংখ্যন নিলে দেখা যাবে, মার্কিনিদের মৃত্যুর আধিক্য তাদের অবাধ মেলামেশার কারণে। যা হোক, জীবনের বাস্তবতা এই যে, পাশ্চাত্যে অথবা প্রাচ্যে উপার্জন ও উৎপাদনের উপকরণগুলো সচল না হলে সর্বত্র জীবন হবে অচল।

- Advertisement -

Ad by Valueimpression
সে কারণে কোভিড-১৯ এর ধ্বংসলীলা শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন দেশে শিথিল হচ্ছে লকডাউন। করোনা মহামারীতে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে দেশে জারি করা হয়েছিল ‘লকডাউন’ বা গৃহবন্দী জীবন। এখন অবস্থার উন্নতি হওয়ায় দেশগুলো ক্রমশ শিথিল করতে যাচ্ছে তাদের জনজীবন। তবে এ ক্ষত্রে একেক দেশ তাদের নিজেদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে একেক কৌশল অবলম্বন করছে। কোনো কোনো দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। আবার কোনো কোনো দেশ অতি সতর্কতা অবলম্বন করে বন্ধ রাখছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও তথাকথিত অভিজাত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ ‘অনলাইনে’ ক্লাস নেয়া শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শিথিলতার মধ্যে সতর্কতার নমুনা ও কৌশল বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম। কোথাও ফেসমাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। আবার কোথাও বা সেচ্ছামূলক। পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এ ক্ষেত্রে কোনো কোনো রক্ষামূলক ব্যবস্থা বাণিজ্যিক স্বার্থে পরিচালিত হয়েছে। বাংলাদেশে হঠাৎ করে মাস্কের ব্যবসা জমে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী প্রথমে বলেছিলেন মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই। পরে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অর্থাৎ রোগী ও চিকিৎসাক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা স্বীকৃত হয়। অথচ এখন সবার মাস্ক পরা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। স্বাভাবিকতায় ফিরে যাচ্ছে পৃথিবী। সুইডেনে শিশুরা ফুটবল খেলতে পারলেও স্পেনে শুধু তাদের রোববার বের হওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে জিমন্যাসিয়াম, সেলুন ও বউলিং ক্লাব খোলার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

যদিও দেশটির হাসপাতালগুলোতে এখনো ভাইরাসজনিত জরুরি অবস্থা বিরাজ করছে। ফ্রান্সে শিশুদের বাইরে নেয়ার বিষয়টি পরিবারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৭ মার্চ থেকে পুরো ফ্রান্সে লকডাউন জারি করা হয়। ঘোষণা করা হয়েছে ১১ মে থেকে তা শিথিল হতে শুরু করবে। ১১ মার্চ থেকে জারি করা লকডাউন প্রত্যাহারের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে বেলজিয়াম। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জানান, ১১ মে থেকে সব দোকান খুলবে। পরের সপ্তাহে খুলবে স্কুল। ক্যাফে ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে ৮ জুন পর্যন্ত। গণপরিবহনে যাতায়াতের সময় মাস্ক পরতে হবে। সংক্রমণ কমতে শুরু করায় ইতালির বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল থেকে সীমিত পরিসরে দোকানপাট খুলেছে। এ ছাড়া কম্পিউটার ও কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে।

এখন দেশটি লকডাউন শিথিলতার দ্বিতীয় ধাপ অতিক্রম করছে। চেক রিপাবলিক মুক্ত যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। জার্মানিতে ইতোমধ্যে ছোট ছোট দোকানপাট খুলেছে। দোকানে ঢুকতে গেলে ভাইরাস প্রতিরোধক ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। কোনো কোনো প্রদেশে চিড়িয়াখানা খুলে দেয়া হয়েছে। সারা দেশে উপাসনালয়ে ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির স্বার্থে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারবে। মে মাসে বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে। এ দিকে মুসলিম বিশে^ করোনাভাইরাসের মহামারীর মধ্যেই শুরু হয়েছে পরম পবিত্র রমজান মাস। ইবাদতের সুবিধার জন্য আক্রান্ত মুসলিম বিশে^র প্রায় সর্বত্র লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। মক্কা ও এর আশপাশের এলাকা বাদে সৌদি আরবের অন্যান্য অংশে কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। সৌদি বার্তা সংস্থা এ খবর পরিবেশন করে বলেছেÑ মক্কা শরিফে আগের মতোই ২৪ ঘণ্টা বহাল থাকছে। কিন্তু দেশটির অন্যান্য অংশে ১৩ মে পর্যন্ত স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল থাকবে। রাজকীয় এ আদেশে খুচরা এবং পাইকারি দোকান ও বিভিন্ন শপিংমল খুলে দেয়া হয়। এ ছাড়া কিছু অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করারও অনুমতি দেয়া হয়েছে।

তবে সেলুন ও সিনেমা হলের মতো যেসব স্থানে শারীরিক দূরত্বের নির্দেশনা মেনে নেয়া সম্ভব নয়, সেগুলো আগের মতোই বন্ধ থাকবে। পাঁচজনের বেশি জমায়েত না হওয়ার নিষেধাজ্ঞাও বলবৎ রয়েছে। এ ছাড়াও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। পাকিস্তানে রমজানের কারণে এবং দেশের অর্থনীতি সচল রাখার স্বার্থে লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। ৯ মে পযর্ন্ত লকডাউন দেয়া থাকলেও সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান একই সাথে আক্রান্ত ব্যক্তিকে পৃথক করা ও অর্থনীতি সচল রাখার ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভারতও দেশজুড়ে আরোপিত লকডাউন শিথিল করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান শুরু থেকেই লকডাউনের আওতার বাইরে ছিল।

এখন আরো কিছু দোকানপাটের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলো। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী- সেলুন, দর্জির দোকানের মতো সাধারণ মানষের জীবিকা নির্বাহী দোকান খোলা যাবে। তবে শপিংমল, সিনেমা, থিয়েটার, জিম ও মদের দোকান খোলা যাবে না। এসব প্রতিষ্ঠান চালাতে হবে ৫০ শতাংশ কর্মী দিয়ে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। দোকানের মালিক ও কর্মীদের প্রত্যেককে মাস্ক ও গ্লাভস পরে থাকতে হবে। শহর এলাকায় অত্যাবশ্যক পণ্য ছাড়াও অন্য দোকানপাট খোলা যাবে, যদি তা আবাসিক এলাকায় হয়। ভারত মনে করছে, মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনা আক্রমণ নি¤œগামী হবে। তখন নিষেধাজ্ঞা আরো শিথিল করা হবে। তবে লকডাউন পুরো উঠবে না। সম্পূর্ণ নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত কোনো-না-কোনোভাবে বিধিনিষেধ বজায় থাকবে। এসব অভিজ্ঞতা ও উদাহরণ আমাদের কাজে আসবে বলে উল্লেখ করা হলো। বৈশি^ক বাস্তবতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশজ প্রয়োজনকে সামনে রেখে বাংলাদেশও ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও শিথিলতার পথে অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় এক মাস ধরে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ফলে একরকম অচল হয়ে পড়েছে জীবনযাত্রা।

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে এই অচল অবস্থা আর ধারণযোগ্য নয়। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যায়ক্রমে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সীমিতভাবে শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক মহলের সবুজ সঙ্কেতের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো অনুকূল সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছে। সরকার ১৮টি মন্ত্রণালয় চালু করেছে সীমিতভাবে। ইতোমধ্যে ব্যাবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ- এফবিসিসিআই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যায়ক্রমে অর্থনীতি খুলে দিতে অভিমত প্রকাশ করে। তাদের অলোচ্য বিষয় ছিল- ‘হাউ ডু উই রেসপনসিবলি ওপেন লজিস্টিকস, রিটেইল, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড মেনুফ্যাকচারিং সেক্টরস মিনিমাইজিং কোভিড-১৯ হেলথ কেয়ার রিস্কস?’ সমাজের সব স্তরের প্রতিনিধিত্বমূলক এই সভায় গণমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের লোকেরা অংশগ্রহণ করে। আলোচনায় অংশ নেয়া সব খাতের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ খাতের অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়ে আলোকপাত করেন। ডিজিটাল মাধ্যমে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ব্যবসায়ী নেতারা আলোচনায় শরিক হন। তারা বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্য সরবরাহ ঘাটতির কথা জানান। গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে বলে জানানো হয়।

সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা শিথিল-পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে নানা ধরনের সুপারিশ পেশ করেন। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- এলাকাভিত্তিক চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ৬৪ জেলায় করোনা টেস্টের ব্যবস্থা থাকা, বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আনা, প্রণোদনার শর্ত শিথিল করা এবং রেল ও নৌপথ ব্যবহারে গুরুত্ব দেয়া ইত্যাদি। ডেলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম খাতভিত্তিক হেলথ প্রটোকল তৈরি করার পরামর্শ দেন। শ্রমঘন এলাকাগুলোতে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে সতর্কতা জানিয়ে গণমাধ্যমের ঝুঁকির বিষয়ে আলোকপাত করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। উল্লেখ্য, ওই সভার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের আগেই ঢাকা এবং এর আশপাশের ৫০০ তৈরী পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক তাদের কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেছে। সরকার ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করে ছিল। কিন্তু সরকারি ঘোষণার আগেই সম্ভবত নীরব সিদ্ধান্তে কারখানা খুলে দেয়া হলো। এতে ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। এ ছাড়া রমজানের নাম করে হোটেল-রেস্তোরাঁ খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অবশ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এ সিদ্ধান্ত শিক্ষাক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আনবে বলে শিক্ষাবিদদের ধারণা।

পর্যায়ক্রমে অর্থনীতি খুলে দেয়ার এ সিদ্ধান্তের দ্বিমত করার যুক্তি বাংলাদেশ পরিপ্রেক্ষিতে খুব শক্ত নয়। বাঁচার তাগিদে সরকারকে উপেক্ষা করে একসময় জনগণ ঘর থেকে বের হয়ে পড়ত। তবে অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়। তাই ঝুঁকি কমাতে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী কারখানা ও অফিসে তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সব ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মূল সমস্যা- পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায়। সুতরাং সরকারকে সবাইকে একত্র করে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মানুষকে মনে রাখতে হবে, মৃত্যু একটি অবধারিত সত্য। কাপুরুষের মতো প্রকৃত মৃত্যুর আগে শতবার মৃত্যুবরণ করার মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই। মার্কিন লেখিকা ও রাজনৈতিক কর্মী হেলেন কিলার বলতেন, ‘এককভাবে আমাদের অর্জনগুলো সামান্য, তবে যৌথভাবে বড় ধরনের অর্জনে সমর্থ হতে পারি।’ হ
লেখক : অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

এই বিভাগের আরও সংবাদ