অভিনেত্রী শায়লা সাথীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে জবি ছাত্র আটক

অভিনেত্রী শায়লা সাথীকে শ্লীলতাহানি

খুলনার সময়: ছোট পর্দার অভিনেত্রী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী শায়লা সাথীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে সূত্রাপুর থানা পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্ত্বরের সামনে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সৈকত এ শ্লীলতাহানি করেন বলে জানান শায়লা সাথী। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইনের অনুসারী বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে সূত্রাপুর থানার উপ-পরিদর্শক নাহিদুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমরা অভিযোগ পেয়ে ওই ছেলেকে আটক করেছিলাম। ভুক্তভোগীও থানায় এসেছিলো মামলা করতে কিন্তু তাদের কাছে সবকিছু শোনার পর দেখলাম ঘটনাস্থল কোতোয়ালি থানার অধীনে। তাই আমরা মামলা না নিয়ে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তকে কোতোয়ালিতে প্রেরণ করেছি।’

ভুক্তভোগী শায়লা সাথী বলেন, ‘এই ছেলেটি অনেক দিন ধরে আমাকে জ্বালাতন করছিল। আজ বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে আমি নিজের ভিডিও করছিলাম। এসময় মেহেদী হাসান সৈকত নামে ওই ছেলেটি আমার পেছন থেকে স্পর্শ করে। এরপর আমি ভয় পেয়ে আমার পাশে থাকা ব্যাচমেট বন্ধু বিলাস দাসকে জানালে তাকেও মারধর করে সৈকত। এ ঘটনায় আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি এর বিচার চাই এবং মামলা করতে থানায় যাচ্ছি।’ ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করায় মারধরের শিকার নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী বিলাস দাস বলেন,’আমার ব্যাচমেট নিজের ছবি ও ভিডিও করছিল। এসময় মেহেদী হাসান সৈকত তাকে উত্যক্ত করে। এসময় সে ভয় পেয়ে বিষয়টি আমাকে জানালে সে বিষয়ে প্রতিবাদ করায় সৈকত নামের ওই ছেলে আমার গায়েও হাত তোলে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

এই অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান সৈকত সহকারী প্রক্টরের সামনে বলেন, ‘আমি ওই মেয়েকে পছন্দ করি। কিন্তু সে আমার ডাকে সাড়া দেয় না।’ এরপর সৈকত ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিতেও রাজি হন। পরে সৈকতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর কিছু বলতে চাননি। এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসাইন বলেন, ‘সৈকত ছাত্রলীগের কেউ না। ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতেও সে অংশগ্রহণ করেনি। এর আগে একদিন সে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তখন আমি নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম। এরপর তার বাবাসহ ক্যাম্পাসে এসে আমার সাথে ছবি তুলেছিল। সে এমন অপকর্ম করে থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমি তার শাস্তির দাবি জানাই। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো কাজ ছাত্রলীগ মেনে নিবেনা।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা লিখিত বক্তব্য পেয়েছি। সিসি ক্যামেরা দেখা হবে। অভিযোগের প্রমাণ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া ওই ছেলেকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

ফেসবুক পেজ এ সব খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার ,বিকাল ৩:৩৭
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৪ বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ৮ শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন