তামিমের কৌশলে বন্দি সাকিব, ফাইনালে কুমিল্লার সঙ্গী বরিশাল

দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে রংপুর রাইডার্স-ফরচুন বরিশালের ম্যাচ গণ্য হয়েছিল সাকিব ভার্সেস তামিম ম্যাচে। তবে দ্বিতীয় কোয়ালিফাইয়ারে সাকিব-তামিমের লড়াই ওঠেনি জমে। তামিমের ব্যাট বলেনি কথা, অলরাউন্ড পারফর্ম করতে ব্যর্থ সাকিব। উভয়ের ভেংচি কাটার দৃশ্যও দেখেনি দর্শক। এমন এক ম্যাচে রংপুর রাইডার্স চ্যালেঞ্জিং স্কোর (১৪৯/৭) পেয়েছে শেষ পাওয়ার প্লে-তে শামীম পাটোয়ারির ব্যাটিংয়ে (২৪ বলে ৫৯*)। তবে শামীম পাটোয়ারীর ব্যাটিং ঝড় ম্লান করে বুধবার রাতে হিরো মুশফিকুর রহিম। তার ৩৮ বলে ৪৭রানের হার না মানা ইনিংসে ১৫০ রানের চ্যালেঞ্জ অনায়াসে পাড়ি দিয়ে ৯ বল হাতে রেখে৬ উইকেটে জিতে ফাইনালে উঠেছে ফরচুন বরিশাল ।

আগামী ১ মার্চ ফাইনালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মুখোমুখি হবে ফরচুন বরিশাল। রাউন্ড রবীন লিগে ৯ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে থেকে কোয়ালিফাইয়ারে ওঠা রংপুর রাইডার্স দুটি কোয়ালিফাইয়ারেই বিপর্যস্ত। নতুন বলে সাইফউদ্দিন-মায়ার্স তোপে লণ্ডভন্ড রংপুর রাইডার্স। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোরশিটে ২৬ উঠতে ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা রংপুর রাইডার্স। জেমস ফুলারের এক ওভারে নবী-সোহান ফিরে যাওয়ায় স্কোরশিটের চেহারা ৭৭/৭। এমন পরিস্থিতি পড়া রংপুর রাইডার্সকে টেনে তুলেছেন শামীম পাটোয়ারী। তার ঝড়ো ব্যাটিংয়ে (২৪ বলে ৫ চার, ৫ ছক্কায় ৫৯*) রংপুর রাইডার্স পেয়েছে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি (১৪৯/৭)।

সাকিব-তামিম দ্বৈরথে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফরচুন বরিশাল অধিনায়ক চাপে ফেলে দিয়েছিলেন রংপুর রাইডার্সকে। দুই এন্ডে দুই পেসার সাইফউদ্দিনের প্রথম স্পেলের (২-০-৬-২) পাশে মায়ার্সের ৪ ওভারের টানা এক স্পেলে (৪-০-২২-১) কী দুর্বিষহ পরিস্থিতিতেই না পড়তে হয়েছে রংপুর রাইডার্সকে। নিজের প্রথম বলে সাইফউদ্দিন শেখ মেহেদীকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন (৫ বলে ২), ৬ষ্ঠ বলে সুইংয়ে সাকিবকে (৪ বলে ১) পরাস্ত করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। মায়ার্স নিজের তৃতীয় ওভারে রনি তালুকদারকে ডিপ মিড উইকেটে শিকার করেছেন (১২ বলে ৮)। মিরাজের প্রথম ওভারে নিকোলাস পুরান লং অনে দিয়েছেন ক্যাচ (১২ বলে ৩)। ম্যাককয়ের বলে নবী ডিপ মিড উইকেটে জেমস ফুলারের হাত থেকে বেঁচে যাওয়ার পরও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। ২ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া নবীকে থামিয়েছেন সেই ফুলার। ফুলারের দ্বিতীয় স্পেলে (২-০-১৭-২) এক ওভারে নবী দিয়েছেন উইকেটের পেছনে স্কাই ক্যাচ (১৪ বলে ১২)। সোহানের অফ স্ট্যাম্প গেছে উড়ে (১৭ বলে ১৪)। এমন একটা পরিস্থিতি থেকে দলকে টেনে তুলেছেন ৮ম জুটির দুই ব্যাটার শামীম পাটোয়ারি-আবু হায়দার রনি’র ৪১ বলে ৭২ রানে রংপুর রাইডার্স পেয়েছে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি। ১৯তম ওভারে ম্যাককয়কে ৩ ছক্কা, ২ বাউন্ডারিতে ২৬ রান আদায় করেছেন শামীম পাটোয়ারি। ওই ওভারের শেষ বলে এক্সট্রা কভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মাত্র ২৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছেন শামীম। ২৪ বলে হার না মানা ৫৯ রানের ইনিংসে ৫ বাউন্ডারির পাশে মেরেছেন ৫ ছক্কা। টেল এন্ডার আবু হায়দার রনির ৯ বলে ১২ রানের অপরাজিত ইনিংসে জেমস ফুলারকে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কাটি ছিল দিনের সেরা শট। এই ম্যাককয় খেয়েছেন সবচেয়ে বেশি মার (৪-০-৫৩-০)। জেমস ফুলার ছিলেন সফল বোলার (৪-০-২৫-৩)।

১৫০ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে এসে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে আবু পর পর ২ বলে তামিম (৮ বলে ১০), মিরাজ (১৪ বলে ৮) ফিরে গেলে ম্যাচটা জমে ওঠার আবহ ছিল। আবু হায়দার রনি (৪-০-৩৭-২) এবং ফজলহক ফারুকী (৪-০-১৬-১) লড়াইয়ে রেখেছিলেন রংপুর রাইডার্সকে। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সৌম্য-মুশফিকুরের ৩১ বলে ৪৭ এবং চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিকুর-মায়ার্সের ২৭ বলে ৫০ রানের পার্টনারশিপে সহজ জয়ের পথ সুগম হয়েছে বরিশালের। মোহাম্মদ নবীর প্রথম ওভারে সৌম্য বোল্ড আউটে থেমে যাওয়ার আগে ১৮ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় করেছেন ২২ রান। ফজলহক ফারুকীর বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দেয়ার আগে মায়ার্স করেছেন ১৫ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় করেছেন ২৮ রান। মুশফিকুর রহিম এদিন নিশামকে এক ওভারে ২ চার, ১ ছক্কায় বড় ইনিংসের আভাস দিয়েছিলেন। সাকিবের প্রথম ওভারে মেরেছেন মুশফিকুর রহিম ২টি বাউন্ডারি। তামিমের ক্যাপ্টেনসি দেখে এলোমেলো সাকিব ৪ বলে করেছেন মাত্র ১ রান, বোলিংয়েও অনুজ্জ্বল (১.৩-০-১৭-০)।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ,রাত ২:১৩
  • ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১৯ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন