দিঘলিয়া মডেল মসজিদ : ৫৬ মাসে অগ্রগতি ৩০ শতাংশ

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় খুলনায় ১ টি এবং ৫ উপজেলায় ৫ টি মোট ৬ টি মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। মসজিদগুলোতে এখন নিয়মিত নামাজ আদায় হচ্ছে। ব্যতিক্রম শুধু দিঘলিয়া মডেল মসজিদ। গত ৫৬ মাসে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। সাড়ে ৪ বছরেও মসজিদের কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। এদিকে নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ বাতিল করেছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। পুনঃটেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলা সদরে ৩১ শতক জায়গার উপর মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের ১৬ জুন নির্মাণ কাজের বাস্তবায়নকারী সংস্থা খুলনা গণপূর্ত বিভাগ -১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী টিচবি-মামুন (জেভি) নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ করা হয় সোয়া ১৩ কোটি টাকা। কার্যাদেশ অনুযায়ী ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। কিন্ত শুরু থেকে ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রভাব, নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য দফায় দফায় বৃদ্ধি, নির্মাণ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিসহ নানাবিধ কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়।

এরপর কাজের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলেও তারা ৪ বছরে মাত্র ৩০ শতাংশ কাজ করতে সমর্থ হয়। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টিচবি-মামুন (জেভি)’র কার্যাদেশ বাতিল করে৷ পরবর্তীতে নির্মাণ সামগ্রীর বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন রেট অনুযায়ী খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ থেকে পুনঃটেন্ডার আহবান করা হয়। এবং ১২ মার্চ নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এস এন বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজের পরবর্তী অংশ নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কর্তৃপক্ষ সময় ব্যয় করে ৭ মাস। ততদিন নির্মাণ কাজ বন্ধ ছিল। দিঘলিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর সহকারী প্রকৌশলী অনুপ বিশ্বাস খুলনা গেজেটকে বলেন, পূর্বের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া কার্যাদেশ বাতিল করে কাজের পরবর্তী অংশ নির্মাণের জন্য মঙ্গলবার (১২ মার্চ) এস এন বিল্ডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে । নতুন রেট সিডিউল অনুযায়ী নির্মাণ কাজের বাকী অংশের ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা। কার্যাদেশ অনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগামী এক বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে।

দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় পূর্বের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন ঠিকাদারকে বাকি অংশ নির্মাণের জন্য খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ থেকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নতুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরুর প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করছে। আগামী রমজানে নতুন মসজিদে নামাজ পড়তে পারবো বলে আশা করি ইনশাল্লাহ। সারা দেশে মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক পিডি মোঃ নাজিবর রহমান বলেন, প্রকল্পের আওতায় সারাদেশে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ৫৬৪ টি মডেল মসজিদ নির্মিত হবে। ইতিমধ্যে ৩০০ টি’র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন। আগামী জুন মাসে আরো ৫০ টি উদ্বোধন হবে। বাকিগুলোর নির্মাণ কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে। আগামী অর্থবছরে ৫৬৪ টি’র মধ্যে ৫০০টি’র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে। তিনি বলেন এ পর্যন্ত আমরা, সারাদেশে ৫১৩ টি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য জায়গা পেয়েছি। এরমধ্যে ১৭ টি ‘র জায়গা অধিগ্রহণের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। খুলনায় এ পর্যন্ত ১ টি এবং ৫ উপজেলায় ৫ টি’র নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ১টি করে ৫৬৪ টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। সারাদেশে এ, বি, সি তিন ক্যাটাগরিতে এ সকল মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। খুলনার ৫ উপজেলায় ৫ টি মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে বি ক্যাটাগরিতে। বি ক্যাটাগরির মসজিদগুলোর আয়তন হবে ১ হাজার ৬৮০ দশমিক ১৪০ বর্গমিটার।

মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা থাকবে। সঙ্গে থাকবে লাইব্রেরী গবেষণা ও দীনি দাওয়াত কার্যক্রম, পবিত্র কুরআন, হেফজ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা। থাকবে হজ্ব যাত্রীদের নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ, ইমাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আবাসনসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য থাকবে অফিসের ব্যবস্থা। জেলা সদর ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্মাণাধীন মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ১২ শ মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন। উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকার মডেল মসজিদগুলোতে একসঙ্গে ৯ শ মানুষের নামাজের ব্যবস্থা থাকছে। নান্দনিক নির্মাণশৈলীতে নির্মিত এসব মডেল মসজিদে রয়েছে একটি করে মিনার।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ,রাত ১:১৯
  • ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১৯ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন