দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাতক্ষীরা ৪ আসনে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ৭ প্রার্থী

সংসদ নির্বাচন

খুলনার সময়: সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর কালীগঞ্জ আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-০৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪২ হাজার ১৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৪ জন ও মহিলা ভোটার ২ লাখ ১৮ হাজার ৭৫৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। শ্যামনগর উপজেলার ১২ ইউনিয়নে ৯১ টি কেন্দ্রে স্থায়ী বুথ ৬৩০, অস্থায়ী বুথ ১১টি মোট বুথের সংখ্যা ৬৪১টি। পুরুষ ভোটার ১লাখ ৪৩ হাজার ৬৮৮ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৮৭ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। মোট ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৫৮ জন। কালিগঞ্জ (আংশিক) উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ৫১ টি কেন্দ্রে স্থায়ী বুথ ২৯৭ টি, অস্থায়ী বুথ ৪০টি মোট বুথের সংখ্যা ৩৩৭টি। পুরুষ ভোটার ৭৯ হাজার ৭৬৬ জন ও মহিলা ভোটার ৭৮ হাজার ৬৮ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ জন। মোট ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৩৫ জন ভোটার ভোট প্রদান করবেন। সাতক্ষীরা-০৪ আসনে আগামী ৭ জানুয়ারীর নির্বাচনে বিভিন্ন দলের ৭ প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। যার মধ্যে এবার আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন সাবেক শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম আতাউল হক দোলন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এর নোঙ্গর প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা, কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও মথুরেশপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুর রহমান জাতীয় পার্টি থেকে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে লড়ছেন, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান এড. মো. শফিকুল ইসলাম ডাব প্রতীক নিয়ে, তৃণমূল বিএনপির আসলাম আল মেহেদী সোনালী আঁশ নিয়ে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান কাঁচি প্রতীক ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এর শেখ ইকরামুল আম প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এ আসনে ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর গাজী নজরুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অধ্যক্ষ আব্দুল হককে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন। তত্বাবধায়ক সরকার বিল পাশ হওয়ার পর সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একে ফজলুল হক বিজয়ী হন। ২০০১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অষ্টম সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর গাজী নজরুল ইসলাম বিজয়ী হন। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের শরিকদল জাতীয় পার্টির এইচএম গোলাম রেজা বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এস এম জগলুল হায়দার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এসএম জগলুল হায়দার পূনরায় বিজয়ী হন। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা ৪ আসনে এবার নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন ৭ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন বিপুল ভোটে নির্বাচিত সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম আতাউল হক দোলন। এছাড়াও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এর সাবেক সংসদ সদস্য এইচ এম গোলাম রেজা নোঙ্গর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে আছেন, জাতীয় পার্টি থেকে নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মাঠে আছেন কালিগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ভাইস চেয়ারম্যান এড. মোঃ শফিকুল ইসলাম ডাব প্রতীক নিয়ে, তৃণমূল বিএনপির আসলাম আল মেহেদী সোনালী আঁশ প্রতীক নিয়ে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান কাঁচি প্রতীক নিয়ে ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এর শেখ ইকরামুল আম প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই এ আসনটিতে প্রচার প্রচারণা শুরু করছেন। তবে দলীয় প্রার্থীর প্রচারনা ও নির্বাচনী সভা-সমাবেশে এগিয়ে রয়েছে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী এসএম আতাউল হক দোলন এর কর্মী-সমর্থকরা। ইতোমধ্যেই শ্যামনগর কালিগঞ্জ আংশিক আসনের নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটি এলাকায় ছেয়ে গেছে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম আতাউল হক দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) এর এইচ এম গোলাম রেজার নির্বাচনী পোষ্টার। বর্তমানে চায়ের দোকান থেকে হাট-বাজার, অফিস পাড়া থেকে শুরু করে মাঠে ঘাটে কর্মরত শ্রমিক ও সাধারন মানুষের মধ্যে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা সমালোচনা। ভোটারদের অনেকেই বলছেন, সাতক্ষীরা ৪ আসনে এসএম আতাউল হক দোলন এবং এইচএম গোলাম রেজার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। দুই জনেরই নির্বাচনী ভীত বেশ মজবুত। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এসএম আতাউল হক দোলন এর কর্মী সমর্থকরা জানান, উন্নয়নের দিকে তাকালে নৌকার কোন বিকল্প নেই। এখন দেখার বিষয় আগামী ৭ জানুয়ারী নির্বাচনে এ আসনের ভোটাররা কাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে জাতীয় সংসদের যাওয়ার সুযোগ করে দেন।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ,রাত ২:৪৪
  • ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১৯ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন