নির্বাচনের পর কী করবে বিএনপি?

নির্বাচন

খুলনার সময়: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করার ডাক দিয়েছে বিএনপি। নির্বাচন শুধু প্রতিহত নয়, ভোটের আগে পরে চারদিন তারা গণ কারফিউ কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। কিন্তু এসব কর্মসূচি দিয়ে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন ঠেকানো সম্ভব হবে না। বিএনপি নেতারাও এমনটা স্বীকার করছেন। তারা বলছেন যে, নির্বাচন প্রতিহত করার মতো কোনও বাস্তব অবস্থা নেই। বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে নির্বাচন উত্তেজনাপূর্ণ, উৎসবমুখর এবং আকর্ষনীয় হয়ে উঠছে। আর এ কারণেই বিএনপির এখন প্রধান লক্ষ্য হলো, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক আন্দোলন অব্যাহত রাখা, নতুন সরকারকে অবৈধ সরকার হিসাবে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে চিত্রিত করা। এবং আন্তর্জাতিকভাবে যেন এই নির্বাচন স্বীকৃতি না পায় সেজন্য চেষ্টা, লবিং এবং তৎপরতা চালানো। বিএনপির আন্দোলনের তিনটি লক্ষ্য ছিল। এর মধ্যে দুটি লক্ষ্য অর্জনে তারা সরাসরি ব্যর্থ হয়েছে। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল যে, বিএনপি ছাড়া যদি কোনও সরকার নির্বাচন করতে চায় তাহলে সেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা পাবে না এবং আন্তর্জাতিক মহল থেকে সেই নির্বাচনকে নেতিবাচকভাবে দেখা হবে। এই নির্বাচন যেন না করা হয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক মহল সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে সরকার বাধ্য হবে নির্বাচন বাতিল করতে এবং একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে। বিএনপির সেই উদ্যোগ বা পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।

বিএনপির দ্বিতীয় পরিকল্পনা ছিল যে, ভোট গ্রহণের আগে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করা যে পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন না হয়। এ লক্ষ্যেই বিএনপি ট্রেনে, বাসে আগুনসহ নানা রকম নাশকতামূলক কাণ্ড করেছিল এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহলে দরবার-তদবির করেছিল। কিন্তু, বিএনপি দ্বিতীয় লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিএনপি এই বিক্ষিপ্ত সহিংস ঘটনা জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। শেষ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষে নির্বাচন প্রতিহত করা এখন দৃশ্যত সম্ভব নয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির তৃতীয় লক্ষ্য হল যে, এখন নির্বাচনে যেন ভোটার উপস্থিতি কম হয়। কিন্তু, সেই লক্ষ্য অর্জনেও বিএনপি ব্যর্থ হবে বলেই ধারণা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, এবার নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিনিধিত্ব করছে এবং ভোটের মাঠে তাদেরকে অত্যন্ত সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। আর এই কারণেই স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও মাঠে তৎপর হচ্ছেন। ফলে ভোটার উপস্থিতি এবার নির্বাচনে যে বাড়বে, এটা নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই।

তাহলে, বিএনপি কী করবে? বিএনপি নেতারা বলছেন যে, বিএনপির আসল করণীয় হবে নির্বাচনের পর। নির্বাচনের পর বিজয়ী দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি নতুন সরকার গঠন করবে। আর তখনই বিএনপির আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দ্বিতীয় ধাপে বিএনপি আন্দোলনকে অব্যাহত রাখতে চায়, নতুন সরকারকে যেন আন্তর্জাতিক মহল স্বীকৃতি না দেয় সে জন্য বিএনপির নানা রকম লবিং এবং দেন-দরবার করবে। পাশাপাশি, দেশেও আন্দোলন অব্যাহত রাখবে। তবে বিএনপির বিভিন্ন সূত্র বলছে, নির্বাচনের পর বিএনপি আন্দোলনের পদ্ধতি এবং কৌশল পরিবর্তন করতে পারে। কারণ, বিএনপির নিজেদের মধ্যে উপলব্ধি হচ্ছে জ্বালাও-পোড়াও ধ্বংসাত্মক রাজনীতি জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। আর এ কারণে ভোটের পর বিএনপির রাজনীতি হবে আন্তর্জাতিকমুখী। তারা নতুন সরকারকে যেন স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, সেজন্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেন-দরবার করার চেষ্টা করবে। পাশাপাশি একটি বিকল্প প্রবাসী সরকার গঠনের পরিকল্পনাও বিএনপির মধ্যে রয়েছে এবং এই লক্ষ্যে বিভিন্ন সুশীল বুদ্ধিজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও জানা গেছে। তবে নির্বাচন প্রতিহত করার বিএনপির কৌশল যেরকম ব্যর্থ হয়েছিল, নির্বাচনের পরে সরকারকে অবৈধ ঘোষণা করার প্রক্রিয়াও সফল হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন না।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

ফেসবুক পেজ এ সব খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার ,বিকাল ৫:০৫
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  • ১৫ শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন



আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন