প্রধানমন্ত্রীর আসনে নির্বাচনি প্রচার যেভাবে

প্রধানমন্ত্রী

খুলনার সময়: নানা ব্যস্ততায় নিজে যেতে না পারলেও দুই উপজেলায় প্রচার থেমে ছিল না আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার। শুক্রবার সকাল আটটায় প্রচারের সময় শেষ হওয়ার আগে আসনটিতে তার প্রচার ছিল তুঙ্গে। তিনি প্রধানমন্ত্রী। বরাবরের মতো এবারও নির্বাচন করছেন গোপালগঞ্জ-৩ আসন থেকে। সংসদীয় এ আসন জেলার টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া নিয়ে। নানা ব্যস্ততায় নিজে যেতে না পারলেও দুই উপজেলায় প্রচার থেমে ছিল না আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার। শুক্রবার সকাল আটটায় প্রচারের সময় শেষ হওয়ার আগে আসনটিতে তার প্রচার ছিল তুঙ্গে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে নেতা-কর্মীরা স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৮ ডিসেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরুর দিন থেকে কোটালীপাড়া উপজেলায় আওয়ামী লীগ, অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা দলের সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে ব্যাপক জনসংযোগ চালান। নির্বাচনের তিন দিন আগে বৃহস্পতিবারও কোটালীপাড়ায় প্রচারে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শেখ হাসিানার পক্ষে গণসংযোগে পাড়া-মহল্লা মুখর হয়ে ওঠে। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নেত্রীর জন্য ভোট চান আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন ১১টি ইউনিয়ন ও প্রথম শ্রেণির এক পৌরসভা নিয়ে গঠিত কোটালীপাড়া উপজেলা। নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দের পরই এ উপজেলার সব ইউনিয়ন ও পৌরসভায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে শেখ হাসিনার পক্ষে প্রচার শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। উপজেলার সব ইউনিয়নে নির্বাচনি জনসভা সম্পন্ন হয়েছে। এসব জনসভায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নির্বাচন পরিচালনার চিফ এজেন্ট সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকারের উপস্থিতি দলীয় নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করে তোলে। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহবুব আলী খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহাবুদ্দিন আলম ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মুন্সী আতিয়ার রহমানকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে প্রচারে প্রায়ই কোটালীপাড়ায় ছুটে যেতে দেখা যায়।

প্রতিদিনই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা উঠান বৈঠক, মিছিল, সভা সমাবেশে মুখর করে রাখেন পুরো কোটালীপাড়া। উপজেলার রাস্তাঘাট, হাটবাজারসহ প্রতিটি গ্রামে গ্রামে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পোস্টারে ছেয়ে যায়। পাড়া-মহল্লাগুলোতে প্রতিনিয়ত শিশু থেকে বৃদ্ধরা নৌকা প্রতীকে মিছিল দেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ১৯৮৬ সাল থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসন থেকে রেকর্ডসংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে আসছেন। এবার এ আসনে ভোটার দুই লাখ ৯০ হাজার ২৫৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬২ আর নারী ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৯১। চায়ের দোকানে নির্বাচনি আড্ডা তুঙ্গে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কোটালীপাড়া উপজেলার চায়ের দোকানগুলোতে তুঙ্গে উঠে নির্বাচনি আলোচনা। গভীর রাত পর্যন্ত ভোটাররা হিসাব-নিকাশ করেন ভোটের নানা দিক নিয়ে। উপজেলার তারাশী বাসস্ট্যান্ডের চায়ের দোকানদার তাইজেল শেখ জানান, বিকেল থেকেই তার দোকানে সাধারণ ভোটাররা নির্বাচনি আড্ডায় মেতে ওঠেন। চায়ের চুমুকে চুমুকে চলে নির্বাচনি আলোচনা। সন্ধ্যার পর থেকে এ আড্ডা আরও জমজমাট হয়ে ওঠে। তাদের সবাই শেখ হাসিনার ভক্ত, সমর্থক। এ চা বিক্রেতা জানান, আড্ডার সময় কে কতবার শেখ হাসিনাকে ভোট দিতে পেরেছেন, তা নিয়ে চলে কথার বাহাদুরি। এতে বেচাকেনাও ভালোই হয়।

নতুন ভোটারদের ভাবনা গত ৩০ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনি এলাকা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ কলেজ মাঠে প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেন। ওই সময় নতুন ভোটারদের কাছে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের ভোট যেন ব্যর্থ না হয়। বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তারুণ্যের শক্তি কাজে লাগাতে হবে।’ এ জনসভার পর উপজেলার সব স্তরের জনসাধারণের মাঝে নির্বাচন নিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়। রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের দিঘলিয়া গ্রামের পারভেজ শেখ এবার নতুন ভোটার। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জীবনের প্রথম ভোট দেবেন। ভোট নিয়ে পারভেজ বলেন, ‘অধীর আগ্রহে ৭ জানুয়ারির অপেক্ষা করছি। জীবনের প্রথম ভোট শেখ হাসিনাকে নৌকা প্রতীকে দিতে চাই।’ কুশলা ইউনিয়নের টুটাপাড়া গ্রামের চাকরিজীবী ইমরান হাওলাদার সুজন বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য ছুটি নিয়ে ঢাকা থেকে চলে এসেছি। পরিবার ও এলাকাবাসী সবাইকে নিয়ে ভোট দিতে যাব।’ গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিপক্ষে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যারা হলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির এম নিজাম উদ্দিন লস্কর (একতারা), জাকের পার্টির মাহাবুর মোল্লা (গোলাপ ফুল), বাংলাদেশ কংগ্রেস পার্টির মো. সহিদুল ইসলাম মিটু (ডাব), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির শেখ আবুল কালাম (আম) ও গণফ্রন্টের সৈয়দা লিমা হাসান (মাছ)। গত ১৮ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রচার শুরু হলেও আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতা-কর্মী ছাড়া এ সংসদীয় আসনে জাকের পার্টির প্রার্থী মাহাবুব মোল্লাকে প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায়, তবে অন্য চার প্রার্থী বা তাদের নেতা-কর্মীদের নির্বাচনি মাঠে দেখা যায়নি।

যা বলছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রচার সংশ্লিষ্টরা কোটালীপাড়ার হিরণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাজাহারুল আলম পান্না বলেন, ‘১৯৮৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিপক্ষে যারা নির্বাচন করেছেন, তারা কেউই জামানত নিয়ে ঘরে ফিরতে পারেননি। আশা করছি এবারও যে পাঁচ প্রার্থী আমাদের প্রিয় নেত্রীর বিপক্ষে নির্বাচন করছেন, তারা তাদের জামানত নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন না।’ কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন শেখ বলেন, ‘কোটালীপাড়ার সর্বত্র ভোটের উৎসব বিরাজ করছে। নির্বাচনি প্রচার শুরুর দিন থেকেই কোটালীপাড়ার প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও পৌরসভার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা শেখ হাসিনার পক্ষে জনসংযোগ করে আসছেন। ‘প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে। সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নির্বাচনি জনসভা হয়েছে। এখানের সবাই উৎসবমুখর পরিবেশে প্রধানমন্ত্রীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে প্রস্তুত রয়েছে।’ শেখ হাসিনার নির্বাচনি এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি নির্বাচন পরিচালনার চিফ এজেন্ট সাবেক সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, ‘আমরা জনগণের মাঝে কোটালীপাড়াসহ সারা দেশে শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে যে উন্নয়ন-অগ্রগতি হয়েছে, তা তুলে ধরেছি। আওয়ামী লীগ যতবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণা করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে তা পদে পদে বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছে। এবারও নির্বাচনি যে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে, সেটিও বাস্তবায়ন করে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন। ‘বিগত ১৫ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বাংলাদেশসহ গোপালগঞ্জ-৩ আসনের মানুষদের অনেক কিছু দিয়েছেন। বিনিময়ে তিনি আমাদের কাছে কিছুই চাননি। এখন আমাদের সময় এসেছে তাকে কিছু দেয়ার। আমরা সকলে ৭ জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নৌকা প্রতীকে ভোট দেব।’

কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সারাটা জীবন নৌকায় ভোট দিয়েছি। এখন আমার বয়স ৮২ বছর। ৫ বছর পরে আর নৌকায় ভোট নাও দিতে পারি। তাই জীবনের শেষ ভোটটিও নৌকায় দিতে চাই। ‘আমি সকল ভোটারদের আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারাও সকলে নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অংশীদার হন।’

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার ,রাত ১০:৫৪
  • ১৭ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১১ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন