মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে খুলনায় অনুষ্ঠানসূচি

মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৪ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে জাতীয় কর্মসূচির আলোকে খুলনায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেরসকারি প্রতিষ্ঠানে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে (০০.০১টায়) শহিদ হাদিস পার্কে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনার মাধ্যমে শহিদ দিবসের কর্মসূচির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবনে সঠিক নিয়মে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং সূর্যাস্তের সাথে সাথে পতাকা নামানো হবে।

সকাল সাড়ে নয়টায় নগরভবনে সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বাদ জোহর বা সুবিধামত সময়ে সকল মসজিদে শহিদদের রুহের মাগফেরাত, দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া মাহফিল এবং মন্দির, গীর্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। বিকেল চারটায় বয়রাস্থ বিভাগীয় গণ-গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে অমর একুশের বইমেলার মঞ্চে বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় শহিদ হাদিস পার্কে খুলনা জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও একুশের পোস্টার প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।

শহিদ হাদিস পার্কে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এছাড়া ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে নির্মিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে মোমবাতি প্রজ¦লনের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।

আওয়ামী লীগ : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিটে শহীদ হাদিস পার্কের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন, ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ০৭টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান। অত:পর প্রভাত ফেরি। প্রভাত ফেরী শেষে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

অনুরূপ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ। প্রিয় মাতৃভাষার মর্যাদা-অধিকার রক্ষা, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত অগণিত শহীদের রক্তে রঞ্জিত দিবসটি খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ সমগ্র বাঙালি জাতির সাথে শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ ও পালন করবে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১মিনিটে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে অবস্থিত শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। একুশে ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৬ টায় সংগঠনের জেলা কার্যালয়সহ জেলার আওতাধীন সংগঠনের সকল শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন, সকাল ৭ টায় কালো ব্যাজ ধারণ, ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি সফল করা এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মসূচি গ্রহণ করে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

কেসিসি : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ পালন উপলক্ষে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দিবসের প্রথম প্রহর ১২টা ১ মিনিটে শহিদ হাদিস পার্কস্থ শহিদ মিনারে সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক-এর নেতৃত্বে পুষ্পস্তাবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন; সূর্য্যদেয়ের সাথে সাথে নগর ভবন, মেয়রের বাস ভবন, খালিশপুর শাখা অফিস, নগর স্বাস্থ্য ভবন, মাতৃসদন, পৌর গ্যারেজ, এ্যাসফল্ট প্লান্ট, ওয়ার্ড অফিসসহ কমিউনিটি সেন্টার ও কেসিসি পরিচালিত সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা এবং শহিদ হাদিস পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ মোড়সমূহ বাংলা বর্ণমালা ও ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হবে।

সকাল ৯টায় নগর ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্লে থেকে নার্সারী ‘ক’ বিভাগ, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি ‘খ’ বিভাগ এবং তৃতীয় শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘গ’ বিভাগে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। ‘ক’ বিভাগের জন্য বিষয় উম্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং ‘খ’ বিভাগের জন্য ‘গ্রামবাংলা’ ও ‘গ’ বিভাগের জন্য ‘একুশের ভাষা আন্দোলন’ বিষয়ের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ঘ’ বিভাগে ‘একুশের চেতনা ও বর্তমান বাংলাদেশ’ এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ‘ঙ’ বিভাগে ‘জাতীয় জীবনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অবদান’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করবেন।

বিএনপি : মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে খুলনা নগর ও জেলা বিএনপি। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিডিয়া সেল প্রদত্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কর্মসূচির কথা জানানো হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২১ ফেব্রুয়ারি ভোর ৬টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ দলের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন। শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের স্মরণে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে দলীয় নেতাকর্মীরা। ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে জমায়েত এবং একুশের প্রথম প্রহরে (১২.০১ মিনিটে) শহিদ হাদিস পার্কের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে নেতাকর্মীরা। ২১ ফেব্রুয়ারী বুধবার বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে ভাষা শহিদদের স্মরনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।

খুবি : ২১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শহিদ তাজউদ্দীন আহমেদ ভবনের সম্মুখে কালোব্যাজ ধারণ, জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালোপতাকা উত্তোলন, এর পরপরই কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল ৯টায় সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা, বাদ যোহর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে প্রার্থনা, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রদীপ প্রজ্বালন। এছাড়াও বিকাল ৪টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

কুয়েট : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৪ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার লক্ষ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এর পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২০ ফেব্রæয়ারি মঙ্গলবার রাত ১১ টায় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহর রাত ১২ঃ০১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থী কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, ২১ ফেব্রুয়ারি সূর্যোদয়ের সাথে সাথে পতাকা উত্তোলন (জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন), সকাল ০৯টায় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা, আসর বাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ভাষা শহীদগণের রুহের মাগফেরাত এবং দেশের শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে দোয়া মাহফিল।

এছাড়াও সম্মিলিতি সাংস্কৃতিক জোট,ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবি, জাসদ, জাতীয় পার্টি, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমুহ, খুলনা মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংগঠন দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ,রাত ২:২৩
  • ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১৯ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন