মায়ার্সের অলরাউন্ড পারফরমেন্সে বরিশালের স্বস্তির জয়

১৮৪ রানের চ্যালেঞ্জ নিতে এসে স্কোরশিটে ৪০ উঠতে ৬ উইকেট হারিয়ে আসরে সর্বনিম্ন স্কোরের অপবাদ না জানি পেতে হয়, এটাই ছিল সিলেট স্ট্রাইকার্সের শঙ্কা। অথচ, ৭ম উইকেট জুটিতে বেনি হাওয়েল-আরিফুলের ৫২ বলে ১০৮ রানে সেই সিলেট স্ট্রাইকার্সই অসাধ্য সাধনের লড়াই করেছে।শেষ ১২ বলে ৪৪ রানের টার্গেটে পর্যন্ত শেষ ওভার থ্রিলার পর্যন্ত জমিয়ে রেখেছিল ম্যাচ তারা। তবে শেষ হাসি হাসতে পারেনি তারা। ১৮ রানে জিতে প্লে অফের আশা বাঁচিয়ে রেখেেছে ফরচুন বরিশাল (১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট)। ইনিংসের মাঝপথে মুশফি-মায়ার্সের ৪৮ বলে ৮৪ রানের পার্টনারশিপ স্কোর দুইশ ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল ফরচুন বরিশালকে। তবে এই দুই ব্যাটারের বিদায়ে শেষ পাওয়ার প্লে’র ৩০ বলে ঝড় তুলতে পারেনি বরিশাল। শেষ পাওয়ার প্লে-তে ৩ উইকেট হারিযে ৪২ রান যোগ করতে পেরেছে তারা। স্কোরটা টেনে নিতে পেরেছে ফরচুন বরিশাল ১৮৩/৬।

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংস শুরু করেছিলেন তামিম। আর এক ওপেনার আহমেদ শেহজাদ তানজিম হাসান সাকিবকে পর পর ২ বলে বাউন্ডারি মেরে দেখিয়েছিলেন বড় স্কোরের স্বপ্ন। তবে ব্যাটিং পাওয়ার প্লে পার করার আগে তানজিম হাসান সাকিবের বলে মিড অফে শেহজাদ ক্যাচ দিলে (১১ বলে ১৭) এবং ইয়র্কারে তামিম বোল্ড হলে (১৮ বলে ১৯) ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোর দাঁড়ায় ৪৬/২।

তানজিদ হাসান তামিমকে বাউন্ডারি দিয়ে ইনিংস শুরু করে সৌম্য লং অফে দিয়েছেন ক্যাচ (৮ বলে ৮)। এর পর মায়ার্সের সঙ্গে মুশফিক দারুণ বোঝাপড়ায় স্ট্রাইক রেটে মনোযোগ রেখে করেছেন ব্যাটিং। ১০ থেকে ১৬-এই ৭ ওভারের কোনোটাতে বাউন্ডারিহীন কাটেনি বরিশালের। ৮৪ রানের এই পার্টনারশিপ বিচ্ছিন্ন করেছেন শফিকুল। তার বলে মায়ার্স শর্ট ফাইন লেগে দিয়েছেন ক্যাচ (৩১ বলে ৩ চার, ৩ ছক্কায় ৪৮)।বিপিএলের চলমান আসরে তৃতীয় ফিফটির ইনিংসে মুশফিক থেমেছেন রান আউটে (৩২ বলে ৩ চার, ৩ ছক্কায় ৫২)।

শেষ ২ ওভারে ঝড় তুলেছেন মিরাজ (৭ বলে ১৫)। তানজিম হাসান সাকিবের বলে পুল করতে যেয়ে বোল্ড হয়েছেন তিনি। এই তানজিম ছিলেন সফল বোলার। তবে খরুচে বোলিং করেছেন। ওভারপ্রতি খরচা তার ১২ রান। ৩ উইকেটের বিপরীতে খরচা তার ৪৮।শফিকুল (১/৩৪) এবং হ্যারি টেক্টর (১/২৯) ১ উইকেট করে পেয়েছেন। ১৮৪ রানের চ্যালেঞ্জে মায়ার্সের প্রথম ওভারের টেক্টর (২ বলে ০) এবং শান্ত (৩ বলে ০) ফিরে গেলে চাপের মুখে পড়ে সিলেট। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে’র ৬ ওভারে স্কোরশিটে ২৯ উঠতে ৩ উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পতনে এক পর্যায়ে সিলেটের স্কোর ছিল ৪০/৬। সেখান থেকে হাওয়েল-আরিফুল নিয়েছিলেন চ্যালেঞ্জ। মাঠজুড়ে খেলে চার-ছক্কার ফুলঝুরিতে বিপিএল ইতিহাসে ৭ম জুটিতে রেকর্ডও করেছেন তারা।

৫২ বলে ১০৮ রানের পার্টনারশিপে ফরচুন বরিশালকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল সিলেট স্ট্রাইকার্স। তবে ১৯তম ওভারে ওবে ম্যাককয়ের বলে পুল করতে যেয়ে আরিফুল স্কাই ক্যাচ দিলে (৩১ বলে ৫ চার, ৪ ছক্কায় ৫৭) শেষ ওভারে ২৩ রানের টার্গেট দাঁড়ায় সিলেটের সামনে। সাইফুদ্দিনের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে বেনি হাওয়েল ক্যাচ দিলে (৩২ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৫৩) রণে ভঙ্গ দেয় সিলেট। ১০ম ম্যাচে সিলেট স্ট্রাইকার্সের এটি ৭ম হার। দারুণ ব্যাটিংয়ের (৩১ বলে ৪৮) পর বোলিংয়ে (৩/১২) উজ্জ্বাল্য ছড়িয়ে ম্যাচ সেরা হয়েছেন মায়ার্স।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার ,দুপুর ২:২২
  • ২২ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১৪ জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন