শেষ আশ্বিনে এমন বেহিসেবি বৃষ্টিপাত দেখেনি অনেকে

সাতক্ষীরা প্রিতিনিধি: বৃষ্টি থামছেই না, সপ্তাহব্যাপী বৃষ্টিতে কেবল জনজীবন দূর্ভোগে তা নয়, উঠতি ফসল, রবিশষ্য, কাটাখন্দ, সবজি সবই বিপদজনক পরিস্থিতিতে। পানিতে সবই তলিয়ে যাচ্ছে। নিকট অতীতে শেষ আশ্বিনে এমন বেহিসেবি বৃষ্টিপাত দেখেনি জনসাধারন।

সাতক্ষীরা দেশের উপকুলীয় জেলা হিসেবে প্রতিনিয়ত জ্বলোচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদী ভাঙন সহ নানান ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগের মুখোমুখি হয়ে থাকে। বর্তমান দীর্ঘ সময় ব্যাপী বৃষ্টিপাত জন দূর্ভোগকে যেমন আকড়িয়ে রেখেছে অনুরুপ ভাবে আকাশ বন্যার রুপ ধারন করেছে। গত কয়েকদিন যাবৎ কোন কোন সময় মুষল ধারে আবার কোন কোন সময় ধীর গতিতে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত তার উপস্থিতি জানান দিচ্ছে সাতক্ষীরা বরাবরই শষ্য ভান্ডার এবং চিংড়ী উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নিজেকে বিশেষ ভাবে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে বারবার প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা সাতক্ষীরার উৎপাদনকে করেছে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এবং অর্থনীতিকে করেছে নিম্নমুখি। সপ্তাহ ব্যাপী বৃষ্টিপাত অকাল বন্যা এবং আকাশ বন্যাকে উৎসাহিত করছে।

ইতিমধ্যে জেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চিংড়ী ঘেরের ভেড়িবাঁধ ফাটল ধরেছে কোন কোন চিংড়ী ঘের অতি বৃষ্টির কল্যানে তলিয়ে গেছে। সাতক্ষীরায় চিংড়ী চাষের পাশাপাশি প্রচুর পরিমান সাদা প্রজাতির মাছ চাষ হয় যা সাতক্ষীরার অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন যাবৎ কাঙ্খিত ভূমিকা রেখে চলেছে। পুকুর জলাশয় সহ এক, দুই, তিন বিঘার মিঠা পানির ঘেরগুলোতে সাদা প্রজাতির মাছ উৎপাদন হয় যা বৃষ্টি শুরু হলে লবনাক্ত চিংড়ী ঘেরের পানি দুধ লবন হলে ঘেরে অবমুক্ত করা হয়।

সাতক্ষীরার নিম্ন এলাকায় চাষাবাদ সহ চিংড়ী ও সবজি উৎপাদনে বৃষ্টিপাত কতটুকু ক্ষতি করেছে যার প্রভাব বাজার ব্যবস্থায় পড়েছে। সবজি ক্ষেতে পানি জমে সবজি গাছ নষ্ট হওয়ার উপক্রম ঘটায় বাজারে হঠাৎ করে আরেক দফা সবজির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। মাছ মাংস বাজারে দেখা দিয়েছে অস্থিরতা। জেলার হাটবাজার গুলোতে গত দুই দিন সবজিসহ মাছ মাংসের উপস্থিতি ছিল কম। অধিকাংশ হাট বাজারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছে না। গতকাল জেলার হাটবাজার গুলোতে সোনালী মুরগীর সংকট দেখা দিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারনে পরিবহন ব্যবস্থার সংকটে তারা পণ্যসামগ্রী আনতে পারছে না। সাতক্ষীরা শহর বর্তমান সময়ে জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিনত হয়েছে। শহরের ব্যস্ততম সড়ক সহ সংযোগ সড়কগুলোতে কোন কোন অংশে হাটু পানি, শহরের বিভিন্ন এলাকার বিশেষ করে মধু মল্লার ডাঙ্গি, কামালনগর, মেহেদী বাগ সহ বহু এলাকার বসতঘরে পানি উঠেছে, ইছামতি, কালিন্দী সহ অপরাপর নদীর ভেড়িবাঁধ বিপদজনক পর্যায়ে পৌছেছে। শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। অবিলম্বে পানি নিষ্কাষন অপরিহার্য।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

ফেসবুক পেজ এ সব খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • বুধবার ,রাত ২:৪৫
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৪ বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ৮ শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন