সন্ত্রাসী দলের নেতার কখনোই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আশ্রয় হতে পারে না

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র

খুলনার সময়: আমাদের সমাজে একটি কথা প্রচলিত আছে, যে লোক একদমই অশিক্ষিত তার দ্বারা সমাজের বা রাষ্ট্রের বা পরিবারের কারো কোনো ক্ষতি হতে পারে না। কেননা ওই ব্যক্তি যেহেতু নিজে কিছু জানেন না কাজেই তিনি অনেকের পরামর্শ গ্রহণ করেন এবং তারপর তার কাছে যেটি মনে হয় সঠিক তিনি সেটি করেন। এর ফলে তার ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে কিছু লোক আছে তারা অল্প শিক্ষিত এদেরকে বলা হয় অর্ধ শিক্ষিত। এই অর্ধ শিক্ষিত লোকেরা পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। কারণ তারা নিজেদের বিজ্ঞ মনে করে, মনে করেন তারা সব কিছু বুঝে এরপর একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাতে নিজের সহ সকলের ক্ষতি হয়। আমরা যারা চিকিৎসা শাস্ত্রের সাথে আছি এবং সাধারণ লোকও বুঝে একজন চিকিৎসক একটি যদি ভুল করে বা একজন চিকিৎসক যদি সঠিকভাবে শিক্ষিত না হয় তাহলে তিনি অনেকে রোগীর ক্ষতি করতে পারেন। তেমনি একজন অর্ধ শিক্ষিত লোক যদি কোনো দলের দায়িত্বে থাকে তাহলে সে দল একেবারে সর্বনাশ হয়ে যায় এবং দুর্ভাগ্যবশত যদি সেই লোক আবার রাষ্ট্রের দায়িত্ব পায় তাহলে সেদেশের বারোটা বাজবে। বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে আছে তারেক জিয়া। তিনি একজন পলাতক আসামী। এদেশের আইন অনুযায়ী আদালত তাতে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং তিনি জেলখানায় না থেকে তিনি তার টাকার জোরে এবং এটিও তার অনৈতিক ভাবে আয় করা। তিনি লন্ডনে রাজনেতিক আশ্রয়ে আছেন।

একটি বিরাট সংখ্যক কর্মী নিয়ে বিএনপি। এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য হলেন ১৯ জন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হলেন ৫০২ জন। মোট ৫২১ জন নিয়ে বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু এদের মধ্যে মাত্র ৯৩ জন জেলে আটক আছেন। তাহলে ৯৩ জনকে বাদ দিলেও চার শতাধিক বিএনপির নেতা জেলের বাইরে আছেন। তারা কেন কিছু করতে পারছে না সেটি একটি কোটি টাকার প্রশ্ন। কিছু করতে না পারার কারণ হল তাদের দলের নেতৃত্বে একজন অর্ধ শিক্ষিত নেতা। যিনি লন্ডন থেকে বাণী দেওয়ার মতো নিদের্শ দিচ্ছেন কি করতে হবে। কর্মীদের সাথে যার সত্যিকারের কোনো যোগাযোগই নাই। অর্ধ শিক্ষিত হওয়ার কারণে সে জানেও না কিভাবে দলের বয়োজ্যেষ্ঠদের ব্যবহার করতে হবে, তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে কিংবা কিভাবে জনগণের সঙ্গে কথা বললে জনগণের সমর্থন পাওয়া যাবে এ সম্পর্কে তার কোনো ধারণাই নেই। এর আগে একটি কলামে আমি লিখেছিলাম যে, এক সময় বিএনপি পশ্চিমাদের সহ গোঠা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠবে এবং একটি সন্ত্রাসী দল হিসেবে সারা বিশ্বে চিহ্নিত হবে। কারণ একটি রাজনৈতিক দল এবং সন্ত্রাসী দলের মধ্যে পার্থক্য আছে। একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিতে হলে সাহস লাগে। আবার একটি সন্ত্রাসী দলের নেতৃত্ব দিতেও সাহস লাগে। কিন্তু দুইটার মধ্যে একটা মৌলিক পার্থক্য আছে। রাজনৈতিক দলের জন্য যে সাহস দরকার সেটি হচ্ছে ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করার জন্যে, দেশের মানুষের মঙ্গল প্রতিষ্ঠার জন্যে কিন্তু সন্ত্রাসী সংগঠনের জন্য সাহস হচ্ছে লোকের ক্ষতি করার জন্যে এবং দেশকে ধ্বংস করার জন্যে। এই সন্ত্রাসী বুদ্ধি খাটিয়েই তারা রেললাইনের স্ক্রু খুলে নিচ্ছে যাতে লোক মারা যায়। একটি রাষ্ট্রের দায়িত্বে যদি একজন সঠিক লোক না থাকে তাহলে সমগ্র দেশের ক্ষতি হবে। সাথে হাজার হাজার লোক এমনকি লাখ লাখ লোকও মারা যেতে পারে। যেমন ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খানের ভুল সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ৩০ লাখ জীবন দিয়েছে।

বিএনপি কিন্তু এখন আর রাজনৈতিক দল নাই। সেটি এখন একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। এই সন্ত্রাসী সংগঠনকে এখন বিশ্বে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেই পরিচিত করতে হবে। বিভিন্ন দেশে যেমন সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নিষিদ্ধ করা হচ্ছে বিএনপিকেও তেমনিভাবে রাজনীতি করতে নিষিদ্ধ করতে হবে। জামায়াত এবং বিএনপি আসলে রাজনৈতিক দলরূপী সন্ত্রাসী সংগঠন। জামায়াত পিছন থেকে বুদ্ধি দেয় এবং বিশ্বের যত সন্ত্রাসী সংগঠন আছে এদের প্রত্যেকের সাথে জামায়াতের সম্পর্ক আছে। এখন লন্ডনে পলাতকে তারেক জিয়ার সঙ্গে সেই একই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এর একাধিক প্রমাণও বিভিন্ন সময় মিলেছে। যারা এখন তাদের সমর্থন দিচ্ছে একদিন তাদেরকে আফসোস করতে হবে। এর জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। যখন রাশিয়া আফগানিস্তান দখল করে তখন এই রাশিয়ানদের সরাতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠন আমেরিকা গঠন করেছিল ধর্মের নামে এবং তারা ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিন্তু পরে আবার তারাই আমেরিকার মাথাব্যথার কারণ হয়েছে। সুতরাং আর বেশি দেরি না করে সমস্ত বিশ্বের সন্ত্রাসীদের মধ্যে তারেকের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। লন্ডনে আইনে তাকে রাজনৈতিক প্রশ্রয় না দিয়ে তাকে জেলে নেওয়া দরকার। একটি সন্ত্রাসী দলের প্রধান বা নেতা কখনোই একটি গণতান্ত্রিক দেশে আশ্রয় নিতে পারে না। এই সন্ত্রাসী সংগঠন থেকে যদি দেশকে রক্ষা করতে হয় তাহলে এখনই তারেককে সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতেই হবে যেন তারেক জিয়াকে সন্ত্রাসী হিসেবে বিশ্বে কোথাও জায়গা না দেয়। না হলে একের পর এক ট্রেনে আগুন দেওয়া থামবে না। ট্রেনে আগুন দেওয়া বা নাশকতা করা, বাসে আগুন দেয়া এসবই তো সন্ত্রাসী কাজ এবং সেটি লন্ডনে বসে তারেকের নিদের্শই হচ্ছে। শুধু বাংলাদেশকে নয়, বিশ্বকে যদি সন্ত্রাসের হাত থেকে রক্ষা করতে হয় বা ভবিষ্যেতে যেন সন্ত্রাসী সংখ্যা না বাড়ে সেজন্য এখনই সময় সন্ত্রাসীদের হোতা তারেক জিয়াকে সন্ত্রাসী হিসেবে জেলে নিতে হবে এবং তার দলকে সন্ত্রাসী দল হিসেবে চিহ্নিত করে সকল ধরনের কর্মসূচি নিষিদ্ধ করতে হবে।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ,রাত ২:১১
  • ১৮ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৪ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১২ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন