সরকারের মধ্যে ইয়ানফসি ইয়ানফসি শুরু হয়েছে : গণতন্ত্র মঞ্চ

গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেছেন, সরকারের মধ্যে ইয়ানফসি ইয়ানফসি শুরু হয়েছে। নিজেদের লোকেরাও এই সরকারের উপর আস্থা রাখতে পারছে না, ক্ষমতার খুঁটি নড়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৪, ’১৮-তে টিকে গেলেও এই দফায় টিকতে পারবে না। জনগণই তাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় করবে। তাই সরকারকে বলব, অবিলম্বে পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। বুধবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন তারা। বেনজীর-আজিজদের মেগা দুর্নীতি এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে গণভোগান্তির প্রতিবাদে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বললেন, বেনজীর-আজিজ তাদের দলের কেউ না। কিন্তু দেশের সবাই জানে, সারা পৃথিবীই জানে- এদের গডফাদার কারা। এদের দিয়েই আওয়ামী লীগ টানা তিনবার ক্ষমতা দখল করেছে। ইন্টারপোলের লাল তালিকাভুক্ত মাফিয়া আনারই নাকি আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা। এদের দিয়েই এখন এই দলটা চলে।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেছেন, ক্ষমতাসীন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আজিজ-বেনজীররা হাজার হাজার কোটি টাকা বানিয়েছে। অবৈধভাবে ক্ষমতায় থাকতেই সরকার তাদের ব্যবহার করেছে। এখন তাদের বিরুদ্ধে বিচার করার নাটক করছে। আবার সরকারের যোগসাজশেই বেনজীর দেশ থেকে পালিয়েছে। সরকারের মধ্যে আরও শত শত বেনজীর, আজিজ, আনার আছে। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে আগামীতে এ রকম আরও অনেকের জন্ম হবে। ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহবায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে সরকারের মধ্যে থাকা দুর্বৃত্তরা দেশকে ধ্বংস করে ফেলবে। আর সরকার ক্ষমতা দখল করতে এই দুর্বৃত্তদের লালন পালন করেছে। ভবিষ্যতেও তাদের উপর ভর করে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চাইবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আজিজকে সেনাপ্রধান বানিয়েছে; বেনজীরকে র‍্যাবের মহাপরিচালক ও আইজিপি বানিয়েছে। আর এখন বলছে ওরা আমাদের লোক না। সরকারকে বলি, জনগণের ভোট ছাড়া ক্ষমতায় আছেন বলে সবাইকে বোকা ভাববেন না। এসব ধান্দা বাদ দিয়ে পদত্যাগ করেন। অর্থনীতি ধ্বংস করেছেন। সামনে আরও খারাপ সময় আসছে। ২০১৪, ’১৮-তে টিকে গেছেন। কিন্তু এই দফায় টিকতে পারবেন না। জনগণই আপনাদের ক্ষমতা থেকে বিদায় করবে। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, কেয়ামতের দিন যেমন কেউ কাউকে চিনবে না, ইয়ানফসি ইয়ানফসি করবে- তেমনি এই সরকারও এখন নিজেদের লোকদের দায় অস্বীকার করছে। সরকারের মধ্যে ইয়ানফসি ইয়ানফসি শুরু হয়েছে। নিজেদের লোকরাও এই অবৈধ সরকারের উপর আস্থা রাখতে পারছে না, ক্ষমতার খুঁটি নড়ে গেছে।

সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে আজিজ-বেনজীরের মতো শত শত দুর্বৃত্তের জন্ম দিয়েছে। তাদের দিয়েই ক্ষমতা দখল করেছে, টিকিয়ে রেখেছে। এই সরকার দুর্বৃত্তদের লালন করে। দেশের খেটে খাওয়া জনগণ, প্রবাসী শ্রমিকদের শোষণ করে সরকার আজিজ, বেনজীর, দরবেশ, এস আলম, আনারদের হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়েছে। এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে না পারলে দেশকে, দেশের জনগণকে বাঁচানো যাবে না। সমাবেশ পরিচালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া। পরে প্রেস ক্লাব ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ,রাত ৩:০১
  • ২৫ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১৯ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন