সাংবাদিককে হাত কাটার হুমকি : যুবলীগ নেতাসহ আটক ২

সাতক্ষীরায় সাংবাদিককে আ.লীগের অফিসে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ও হাত কাটার হুমকি দেওয়ায় যুবলীগ নেতাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। লাঙল প্রতীকের প্রার্থীকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন। সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগের অফিসে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশুর সমর্থক সাতক্ষীরা সদরের গোবিন্দকাটি গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমানের ছেলে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক শেখ ও তার ভাই মিলন শেখ।

অপরদিকে, লাঞ্ছিতের শিকার ইয়ারব হোসেন দৈনিক মানবজমিনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি সাতক্ষীরা সদরের তুজুলপুর গ্রামের ইছাহাক মোড়লের ছেলে।

ইয়ারব হোসেন বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় বর্তমান সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবির সমর্থক স্থানীয় ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অমন্দ্র নাথ ঘোষসহ তিনজন ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন আ.লীগ অফিসে যায়। কিছুক্ষণ পর সেখানে চাঁদাবাজ ও যুবলীগ নেতা আব্দুল খালেক ও তার ভাই মিলন এসে আপত্তিকর ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন।

তিনি বলেন, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই লাঙল প্রতীকের কর্মী আব্দুল খালেক বলতে থাকে- লাঙলের প্রার্থীকে নিয়ে নিউজ করেছিস? তোরে আজকে পেয়েছি, আজকে তোরে শেষ করে দেব। তুই লাঙল প্রার্থীর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করিস, তোর হাত কেটে দেব। এসব বলে তারা আমাদের পেশিশক্তি প্রয়োগ করে সেখান থেকে আমাকে মারপিট করে বের করে দেয়।

ইয়ারব আরো বলেন, পরবর্তীতে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশকে জানালে পুলিশ অভিযুক্তদের আটক করে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে আমরা চলে আসার সময় তারা পুলিশের সামনেই আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে রাতেই থানাতে এজাহার জমা দিয়েছি।

ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমন্দ্র নাথ ঘোষ বলেন, আওয়ামী লীগের অফিসকে তারা জাতীয় পার্টির অফিসে পরিণত করেছে। আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেই সুবাদে আওয়ামী লীগের অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করি। নির্বাচন উপলক্ষে আ.লীগের অফিসে গেলে সেখানকার তথাকথিত নামধারী চাঁদাবাজ খালেক শেখ লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মানবজমিনের সাংবাদিক ইয়ারব হোসেনসহ আমাদের কয়েকজনকে অশ্লীলভাবে গালিগালাজ করতে করতে মারপিট করে অফিস থেকে বের করে দেয়। একই সঙ্গে ফোন করে জাতীয় পার্টির লোকজনকে আসতে বলে। পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে রূপ নেবে বিধায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ এসে তাদের আটক করে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে সেটি পরে জানানো হবে।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • মঙ্গলবার ,রাত ১:০৪
  • ১৮ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৪ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১২ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন