সারা দেশে ৩১ প্রার্থীর ভোট বর্জনের খবর

৩১ প্রার্থীর ভোট বর্জন

খুলনার সময়: ভোটকেন্দ্রে নানা অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে সারা দেশ থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বেশ কয়েকজন প্রার্থী। রোববার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে এসব ঘোষণা আসে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দেশের ১৯ জেলা থেকে ৩১ প্রার্থীর ভোট বর্জনের খবর পাওয়া গেছে। কক্সবাজারের তিন আসনে ৪ প্রার্থীর ভোট বর্জন। কক্সবাজারে তিনটি আসনে তিন স্বতন্ত্র ও জাতীয় পার্টির (জাপা) এক প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন।

কক্সবাজার-৪: ভোট চলাকালে রোববার দুপুর একটার দিকে প্রথম বর্জনের ঘোষণা দেন কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে জাতীয় পার্টির মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী নুরুল আমিন সিকদার ভুট্টো। তিনি অভিযোগ করেন, ‘সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়, কিন্তু যেসব কেন্দ্রে আমি ভোট পাব, সেসব কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে, উখিয়ার জালিয়াপালং, রত্নপালং ও রাজাপালং ইউনিয়ন থেকে আমার সব এজেন্টকে বের করে দেয়া হয়। ‘বিষয়টি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। একই সঙ্গে ব্যাপক অনিয়ম, জাল ভোট প্রদান ও কেন্দ্র দখল করা হয়েছে। তাই ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ বেলা তিনটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতীকের নুরুল বশর। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, জাল ভোট, এজেন্ট বের করে দেয়া ও নজিরবিহীন অনিয়ম, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পক্ষপাতিত্ব করে আমার নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। তাই আমি এই ভোট বর্জন করলাম।’

কক্সবাজার-১: বেলা সাড়ে তিনটার দিকে নিজের ফেসবুক পেজে ভিডিওবার্তায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন কক্সবাজার-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি জাফর আলম। তিনি বলেন,‘কেন্দ্র থেকে আমার এজেন্টদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়। অনেক প্রিসাইডিং অফিসারকেও আহত করা হয়। তাই আমি ভোট বর্জন করলাম।’ ওই সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে চকরিয়া-পেকুয়াবাসীর কাছে ক্ষমা চান।

কক্সবাজার-৩: সদর-রামু-ঈদগাঁও এলাকার এ আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ ভোট বর্জন করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন। বেলা দুইটার দিকে ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কক্সবাজার-৩ আসনে ১৬৭টি কেন্দ্রের মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর নেতৃত্বে ১৩০টি কেন্দ্র দখল করে ব্যালেট পেপারে জোরপূর্বক সিল মারা হচ্ছে। বিষয়টি লিখিতভাবে জেলা রিটানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসককে জানানো হয়। ‘আবেদনে ভোট স্থগিত করে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ভোট বর্জন করলাম।’

সিলেট-২ আসনে বর্তমান এমপিসহ ৪ প্রার্থীর ভোট বর্জন নানা অভিযোগ তুলে দ্বাদশ সংসদের ভোট বর্জনের ঘোষণা দিলেন সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও গণফোরামের প্রার্থী মোকাব্বির খান চৌধুরীসহ চার প্রার্থী। রোববার দুপুরে বিশ্বনাথ বাজারে সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তারা। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালেও তাদের পক্ষে একই ঘোষণা দেয়া হয়। এ আসনে নৌকা প্রতীকে লড়ছেন শফিকুর রহমান চৌধুরী। আসনটিতে ভোট বর্জনের ঘেষণা দেয়া প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ইয়াহইয়া চৌধুরী, গণফোরামের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিশ্বনাথ পৌরমেয়র মুহিবুর রহমান এবং তৃণমূল বিএনপির আব্দুর রব মল্লিক। সাংবাদিকদের ঈয়াহইয়া বলেন, জাল ভোট, কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়া হচ্ছে। নির্বাচনি পরিবেশ অনুকূলে নেই। তাই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর দাঁড়াচ্ছি।

জামালপুরে দুটি আসনে ২ প্রার্থীর ভোট বর্জন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ -মাদারগঞ্জ) আসনের জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মীর শামসুল আলম লিপ্টন ও জামালপুর-৫ (সদর) আসনের ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ভোট বর্জন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ সময় প্রার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ‘কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।’

জামালপুর-৫ সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম ভোট জালিয়াতি, কেন্দ্র দখল, এজেন্ট বের করে দেয়াসহ ভয়াবহ ভোট ডাকাতি এবং প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে ভোট স্থগিত করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি করেছেন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে লাঙ্গলের ভোট বর্জন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী রেজাউর রাজী স্বপন চৌধুরী জাল ভোটের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেছেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে তিনি ভোট বর্জনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। এ সময় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘ভোটাররা ভোট দিতে এসে বাধার মুখে পড়েন। সবার সামনে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ানো হচ্ছে, জাল ভোট দেয়া হচ্ছে। এই দেশে মানুষের ভোটের অধিকার নেই- তার প্রমাণ আজ সবাই দেখতে পেলেন।’

নারায়ণগঞ্জ-২: নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে প্রায় সব কেন্দ্রে প্রকাশ্যে নৌকায় সিল মারার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আলমগীর শিকদার লোটন। রোববার তার নিজ এলাকায় রামচন্দ্রদী কেন্দ্রে নৌকার এজেন্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললে সেখানে বাদানুবাদ ঘটে। এ বাদানুবাদের একপর্যায়ে অতিরিক্ত পুলিশ এসে গুলি ছুড়লে পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। এ কারণে নির্বাচন বর্জন করেন তিনি।

যশোর-১: নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৫৫টি কেন্দ্র দখলের অভিযোগে এনে ভোট বর্জন করেছেন যশোর-১ আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম লিটন। রোববার বেলা ১১টার দিকে বেনাপোল মাদ্রাসা কেন্দ্রের পাশে নিজের একটি নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেন লিটন। লিটন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বেনাপোলের সাবেক পৌর মেয়র।

ঢাকা-২ আসনে ডা. হাবিবুর রহমানের ভোট বর্জন কেন্দ্রে অনিয়ম, ভোটারদের মারপিট, পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেয়াসহ নানা অভিযোগে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ, কামরাঙীরচর-সাভার একাংশ) আসনের ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. হাবিবুর রহমান। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার নিজ বাসভবন থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ট্রাক প্রতীকের এ প্রার্থী। সংবাদ সম্মেলনে ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে অনিয়ম, ভোটারদের মারপিট, পোলিং এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেয়া এবং নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূলে না থাকায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিচ্ছি। আমার পরিবার ও নেতা-কর্মীদের কথা চিন্তা করে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ এ আসনে প্রার্থী বাকি তিন প্রার্থী হলেন- ইসলামী ঐক্যজোটের (মিনার প্রতীক) আশ্রাফ আলী জিহাদী, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল প্রতীক) শাকিল আহমেদ এবং আওয়ামী লীগের (নৌকা) অ্যাডভেকেট কামরুল ইসলাম।

খুলনা-১: খুলনা -১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) আসনের বাংলাদেশ তৃণমূল বিএনপি মনোনীত সোনালী আঁশ প্রতীকের প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক ভোট বর্জন করেছেন। রোববার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনি সাংবাদিকদের ভোট বর্জনের কথা জানান। এ সময় গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, ‘দাকোপ উপজেলার বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্রে এজেন্টদের ও আমার ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করায় তারা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হননি। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে সরজমিনে গিয়ে খুব কম সংখ্যক ভোটার পেয়েছি। তাতে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করছি। কিন্তু ১২টার দিকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারি, ৬০ শতাংশ ভোট কাউন্ট হয়েছে। তাই প্রহসনের ভোট আমি বর্জন করছি।’

চট্টগ্রাম-১২: পটিয়ার এ আসন থেকে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) নোঙর প্রতীকের প্রার্থী এম এয়াকুব আলী। নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের পাশাপাশি ভোটে প্রভাব বিস্তার, নোঙ্গর প্রতীকের এজেন্টকে বের করে দেয়াসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। রোববার বিকেল তিনটার দিকে উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের হরিনখাইন এলাকায় তার প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেন এয়াকুব আলী। তিনি বলেন, ‘আমার অধিকাংশ কেন্দ্রের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। ভোটার ও কর্মীদের হুমকি দেয়া হয়েছে। সবকটি কেন্দ্র দখল করে নেয়া হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু ভোটের আশ্বাসে আমি প্রার্থী হয়েছি, কিন্তু তারা তাদের কমিটমেন্ট রাখেনি। তারা আবারও প্রমাণ করছে, এ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ‘হয়ত ১০-১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। কিন্তু তারা ৫০ শতাংশ ভোট দেখানোর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।’

নড়াইল-২ আসনে ২ প্রার্থীর ভোট বর্জন ভোটগ্রহণে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে নড়াইল-২ আসনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত হাতুড়ি প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান ভোট বর্জন করেছেন। রোববার বিকেল ৩টার কিছু আগে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন। একই অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল প্রতিকের লায়ন নূর ইসলামও ভোট বর্জন করেছেন। বিকেল তিনটার পর ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন এ প্রার্থী। ময়মনসিংহে চার প্রার্থীর ভোট বর্জনের ঘোষণা ভোট শুরুর পর থেকে বিকেলের মধ্যে ময়মনসিংহের মোট চারজন প্রার্থীর নির্বাচন বর্জনের খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ময়মনসিংহ-১০ আসনের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ময়মনসিংহ-২ ও ৭ আসন থেকে যথাক্রমে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ভোট বর্জন করেছেন।

ময়মনসিংহ-১০: গফরগাঁওয়ের এ আসনে অনিয়মের অভিযোগ এনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট কায়সার আহাম্মদ এবং ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. আবুল হোসেন দীপু নির্বাচন বর্জন করেছেন। রোববার সকালে কায়সার আহাম্মদ গফরগাঁওয়ের ধামাইলে তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। অপর প্রার্থী আবুল হোসেন দীপু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। পরে তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে কায়সার আহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই নৌকার কর্মী-সমর্থকরা প্রতিটি কেন্দ্রে ঢুকে ভয় দেখিয়ে ঈগল প্রতীকের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়ে নৌকায় প্রকাশ্যে সিল মারার মহোৎসব করছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নৌকার এজেন্ট এবং কর্মী-সমর্থকরা নৌকায় সিল মেরে ব্যালট বাক্স ভরে রাখছে।’ প্রশাসনকে জানিয়েও তিনি কোনো প্রতিকার পাননি উল্লেখ করে কায়সার আহাম্মদ এই নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় এ আসনে নির্বাচন দেয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান। অপরদিকে সাংবাদিকদের আবুল হোসেন দীপু বলেন, ‘গফরগাঁওয়ের প্রতিটি কেন্দ্র এবং পাগলা থানার বেশিরভাগ কেন্দ্র তাদের দখলে চলে গেছে এবং তারা জোরপূর্বক ভোট দিচ্ছে। এখানে প্রশাসন নীরব। আমি জেলা রিটার্নিং অফিসার, ইউএনও, সহকারী রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করেছি। কেউ কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসনও নীরব। সুতরাং এই নির্বাচন অর্থহীন। ভোট দেয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। নিরাপত্তা না থাকায় আমি এই আসন থেকে আমার ট্রাক প্রতীকের যে প্রার্থিতা, তা বর্জনের ঘোষণা দিলাম।’

ময়মনসিংহ-২: একই ধরনের অভিযোগ এনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী এনায়েত হোসেন মন্ডল। রোববার দুপুর ২টার দিকে ভোট বর্জন করার ঘোষণা দেন এনায়েত হোসেন মন্ডল।

ময়মনসিংহ-৭: ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী ডক্টর আব্দুল মালেক ফরাজি ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। কিন্তু এ নিয়ে আইনি কোনো পদক্ষেপ নেই। তাই আমি ভোট বর্জন করে এই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি।’

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • শনিবার ,রাত ১১:১২
  • ২৫ মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১৭ জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন