হারে শেষ বাংলাদেশের বিশ্বকাপ, ব্যাটারদের অর্জন ম্লান

বাংলাদেশ : ৩০৬/৮( ৫০.০ ওভারে)

অস্ট্রেলিয়া : ৩০৭/২ (৪৪.৪ ওভারে)

ফল : বাংলাদেশ ৮ উইকেটে পরাজিত।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ : মিচেল মার্শ (অস্ট্রেলিয়া)।

জয় দিয়ে শুরু করে টানা ৬ ম্যাচ হারের লজ্জা ৮ম ম্যাচে এসে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে নিবারণ করেছে বাংলাদেশ।২০০৩ বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে বড় হতাশার গল্প রচনায় থেমেছে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন। পুনেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৩০৮ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়ে আতঙ্কে ফেলতে পারেনি বাংলাদেশ। বরং এদিন ম্যাক্সওয়েলের ক্লোন হয়ে বাংলাদেশ বোলারদের ছিন্নভিন্ন করেছেন মিচেল মার্শ। তার ক্যারিয়ারসেরা হার না মানা ইনিংসে (১৩২ বলে ১৭৭*) ৩২ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে যে দলটি বিধ্বস্ত হওয়ার কথা, সেই অস্ট্রেলিয়া টানা সপ্তম জয়ে চেনালো নিজেদের। এর আগে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৯১ রান তাড়া করে তাদের জয় ছিল আফগানিস্তানের বিপক্ষে।বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩০৭ রান তাড়া করে জয় এখন তাদের নতুন রেকর্ড।

এদিন যে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বকাপে দেখতে চেয়েছিল সমর্থকরা, শেষ ম্যাচে এসে দেখা মিলল সেই বাংলাদেশের। বিশ্বকাপের এই আসরে তিনশ স্কোর হয়েছে অজস্র। অথচ, প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল ২৫৬/৮।

শেষ ম্যাচে এসে সে আক্ষেপ ঘুঁচেছে। হাওয়ায় উড়তে থাকা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেছে বাংলাদেশ ৩০৬/৮। বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথমে ব্যাট করে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৯ বিশ্বকাপে ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৩০/৬ বিশ্বকাপে প্রথমে ব্যাট করে যে কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ।

পুনেতে এদিন বাংলাদেশকে দল অনেক প্রশ্নের উত্তরের জন্য নিয়েছে চ্যালেঞ্জ। সাকিবহীন দলের জন্য চ্যালেঞ্জটা আরও বড়। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে কোয়ালিফাই নিশ্চিত করার পাশাপাশি বড় দলের বিপক্ষে জয় নিয়ে দেশে ফিরে সান্ত্বনার উপলক্ষ্যও খুঁজছে বাংলাদেশ।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন ব্যাটাররা সবাই এদিন দলের চাহিদা মিটিয়েছেন। ওপেনিং জুটির ৬৯ বলে ৭৬ রানে ছন্দ ফিরে পেয়েছে বাংলাদেশ দল। পর পর ৬টি পার্টনারশিপের চিত্র ছিল এমন-৭৬,৩০,৬৩,৪২,৩৭,৩৫। প্রতিটি পার্টনারশিপই সময়ের দাবি মিটিয়েছে।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে কামিন্সকে তানজিদ হাসান তামিম কাভার ড্রাইভ এবং স্ট্রেইট ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে দারুণ একটি দিনের আভাস দিয়েছেন। ৮ম ওভারে অ্যাবটকে লিটন কভার ড্রাইভ, স্কোয়ার ড্রাইভ এবং পুল শটে তিনটি বাউন্ডারি মেরে বাংলাদেশ সমর্থকদের হাততালি পেয়েছেন। ৩৬-এ থেমেছেন (৩৪ বলে ৬ চার) তানজিদ, অ্যাবটের বলে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে। অজি লেগ স্পিনার জাম্পার বলে লিটন লং অনে ক্যাচ প্র্যাকটিস করিয়ে থেমেছেন ৩৬ রানে (৪৫ বলে ৫ চার)।

জাম্পাকে লং অনে ছক্কায় নিজেকে চেনানো তাওহিদ হৃদয় বিশ্বকাপে নিজের ৬ষ্ঠ ইনিংসে এসে দেখা পেয়েছেন ফিফটি। ৬১ বলে ফিফটি উদযাপন করে ৭৪ রানের মাথায় (৭৯ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৭৪)। স্টয়নিচের বলে ডিপ মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ। নিজের ভুলে শান্ত রান আউটে কাটা পড়েছেন।

অ্যবটের লেগ স্ট্যাম্পের বাইরে পিচিং ডেলিভারিতে স্কোয়ার লেগের ফিল্ডারের হাতে বল দেখেও দুই রানের জন্য দৌড়টা তার ভুল, রান আউটে কাটা পড়ে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। রান আউটে থেমে যাওয়ার আগে ৫৭ বলে ৬ বাউন্ডারিতে ৪৫ রান করেছেন।

বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ শুরুটা করেছেন অ্যাবটকে ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে ছক্কায়। মার্শকে মেরেছেন ২টি ছক্বা। ৩২ রানের মাথায় এসে লাবুশানের ডাইরেক্ট থ্রোতে রান আউট তিনি ৩২। এদিন লেট অর্ডারে এসে মিরাজও মার মার কাট কাট ব্যাটিং করেছেন (২১ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ২৯)।

ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে স্কোর ৬২/০।যেভাবে ৪০ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করেছে বাংলাদেশ দল, তাতে সর্বশেষ বিশ্বকাপে নটিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ ৩৩৩/৮-কে ছাড়িয়ে যেতে পারতো এদিন। তবে শেষ ১০ ওভারে স্কোরশিটে ৬৭ উঠতে ৪ উইকেট হারানোয় ৩০৬/৮-্এ থামতে হয়েছে বাংলাদেশকে।অজি বোলারদের মধ্যে অ্যাবট (২/৬১), জাম্পা (২/৩২),স্টয়নিচ (২/৪৫) ২টি করে উইকেট পেয়েছেন।

১৮ বছর আগে কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় থেকে টনিক নিতেই পারেনি বাংলাদেশ দল। বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ ও নিতে পারেনি।বরং বাংলাদেশকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালের প্রস্তুতিটা সেরে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তাসকিনের বলে ট্রাভিস হেড প্লেড অন হলে (১১ বলে ১০) দারুণ কিছু’র আবহ পায় বাংলাদেশ দল। তবে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১১৬ বলে ১২০ এবং অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে ১৩৫ বলে ১৭৫ রান বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। মিচেল মার্শ এদিন বাংলাদেশ বোলারদের আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরিয়েছেন।

৮৭ বলে ১১ চার, ৪ ছক্কায় বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন করে ফিনিশার চরিত্রে আবির্ভুত হয়েছেন। করেছেন ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস (১৩২ বলে ১৭ চার,৯ ছক্কায় ১৭৭)। ওয়ানডে ম্যাচকে টি-টোয়েন্টি ম্যাচের উত্তাপ দিয়েছেন। করেছেন ১৩৪.০৯ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং। তার পার্টনার স্মিথ ছিলেন ৬৪ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত।ওয়ার্নার করেছেন ৬১বলে ৫৩ রান।

বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে এদিন সবচেয়ে মার খেয়েছেন বা হাতি স্পিনার নাসুম (১০-০-৮৫-০)। ৯টি বাউন্ডারি এবং ৩টি ছক্কা খেয়েছেন তিনি।ওয়ার্নারের উইকেটের বিপরীতে মোস্তাফিজের খরচা ৭৬ রান! মিরাজ (৯-০-৩৮-০) এবং তাসকিন (১০-০-৬১-১) নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন।অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বাংলাদেশকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে রোববার বেঙ্গালুরে ভারত-নেদারল্যান্ডস ম্যাচের দিকে। সেই ম্যাচ কাকতালীয়ভাবে নেদারল্যান্ডস জিতলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলার আশা শেষ হয়ে যাবে বাংলাদেশের।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার ,রাত ১০:৪২
  • ১৭ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১১ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন