হিজবুল্লাহ হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের সেনা ক্যাম্পে

ফিলিস্তিন

দৃষ্টিপাত ডেস্ক ॥ ইসরাইলি হামলা চলছেই নিরীহ এবং নিরস্ত্র ফিলিস্তীনিরা মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যুবরণ করছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ঐতিহাসিক গাজা উপত্যকা নিমিষেই শ্মশানে পরিনত হবে। জনমানবহীন এক প্রান্তরের নাম হবে গাজা। আর দখলদার ইসরাইল সেটাই চাইছে। প্রায় তিনমাস যাবৎ গাজায় ইসরাইলি বাহিনী নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়ে হত্যাকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আবাসিক ভবন, জনবহুল জনপদ, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনটিই তাদের হামলার কবল হতে রক্ষা পাচ্ছে না। এমনকি গাজার বোমা হামলা হতে জীবন বাঁচাতে আশ্রয় শিবির গুলোতে আশ্রয় নেওয়া ফিলিস্তীনিদের উপর (আশ্রয় শিবিরে) হামলা চালিয়ে নির্বিচারে নারী ও শিশুদেরকে হত্যা করে চলেছে। ইসরাইল কেবল বিমান হামলায় সাধারন ফিলিস্তীনিদের হত্যা যজ্ঞে সফল হলেও হামাস যোদ্ধাদের নির্মূলে সামান্যতম সাফল্য অর্জন করছে না, প্রতিনিয়ত হামাস যোদ্ধাদের হামলায় ইসরাইলি সেনারা প্রতিনিয়ত হতাহত হচ্ছে এবং নিহত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক আদালতে ইতিমধ্যে ইসরাইলকে মানবতা তথা গণহত্যার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দক্ষিন আফ্রিকা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এদিকে ইসরাইলের প্রাণকেন্দ্র রাজধানী তেল আবিবে গতকালও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সহ তার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বিক্ষোভ কারীরা ইসরাইলিদের হামাস যোদ্ধাদের কবল হতে মুক্ত করার দাবীতে এবং মুক্ত না করার ব্যর্থতায় উক্ত সমাবেশ ও বিক্ষোভ হাজার হাজার ইসরাইলি অংশ গ্রহন করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ইসরাইলি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিল প্রয়োগ করে। বিক্ষোভকারীরা হাতে প্লাকার্ড সহ নানা ধরনের আবেদন ও সরকার বিরোধী লেখা সম্বলিত কার্ড গ্রহন করছিল। এদিকে কাতার ও মিশর আবারও গাজায় যুদ্ধ বিরতির বিষয়ে হামাসের সাথে আলোচনা শুরু করেছে। হামাসের সশস্ত্র শাখা আল কাসেম ব্রিগেড ইতিপূর্বে তাদের টেলিগ্রাম পোষ্টে জানিয়েছে যে ইসরাইলের সাথে কোন ধরনের যুদ্ধ বিরতির আলোচনায় বসবে না হামাসের পক্ষ হতে একই বার্তায় মিশর ও কাতারকেও জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোন অবস্থাতেই ইসরাইলের সাথে বসবে না। হামাসের দ্বিতীয় প্রধান নেতা মৌমীরি সহ শীর্ষ সাত হামাস নেতাকে ইসরাইল লেবাননের একটি আবাসিক ভবনে হামলা পরিচালনা করে হত্যা করে। সেই থেকে হামাস প্রতিশ্র“তি বদ্ধ যে তারা কোন অবস্থাতেই ইসরাইলের সাথে কোন ধরনের আলোচনায় বসবে না, এদিকে হুতি বিদ্রোহীরা গতকাল ও লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজে হামলা পরিচালনা করেছে। পশ্চিমা মিডিয়াগুলো জানিয়েছে যে ইসরাইল গামী জাহাজ লোহিত ও ভূ-মধ্যসাগরে পেরিয়ে ইসরাইলের বন্দরে নোঙর করার সময়ের পূর্বে উক্ত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন দশ জোট ভূক্ত দেশ হুতি বিদ্রোহীদের নির্মূল করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সাম্প্রতি মার্কিনী ক্ষেপনাস্ত্র হামলায় দশ হুতি বিদ্রোহী নিহত হওয়ার পর থেকে হুতি যোদ্ধারা ব্যাপক শক্তি অর্জন করে সাগরে অবস্থান নিয়েছে এবং ইসরাইল গামী ও পশ্চিমা দেশগুলোর জাহাজ চলাচলে বাঁধা দিচ্ছে ও হামলা পরিচালনা করছে। গাজার আল জাবালিয়া শরনার্থী শিবির বারবার আলোচনায় এসেছে। কখনও শরনার্থী শিবিরে ইসরাইলী বিমান হামলায় শত শত আশ্রয় প্রার্থীকে হত্যা আবার কোন কোন সময়ে আশ্রয় শিবিরে খাদ্য ও সুপেয় পানি স্বপ্লতা সর্বশেষ আল জাবালিয়া শরনার্থী শিবির বিশ্ব মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছে এবার গাজায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কল্যানে আল জাবালিয়া শরনার্থী শিবিরে পানি প্রবেশ করে শিবিরটিতে অবস্থান করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে একই সাথে উক্ত আশ্রয় শিবিরে অবস্থানকারী ফিলিস্তীনিরা নানান ধরনের রোগ বালাইতে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল ও খান ইউনিসে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর সাথে হামাস যোদ্ধাদের ব্যাপক ভিত্তিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। খান ইউনিসে দীর্ঘদিন যাবৎ দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর সাথে কখনও সম্মুখ পানে আবার কোন কোন সময় পরোক্ষ ভাবে যুদ্ধ চলছে। এদিকে হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা গতকাল ও ইসরাইলি ভূখন্ডে গোলাবর্ষন করেছে ও রকেট হামলা পরিচালনা করেছে। ইসরাইলের সংবাদ পত্র গুলো দেশটির সরকারের বরাত দিয়ে বলেছে আগামী দিন গুলোতে লেবানন ও ইরান বিষয়ে সতর্কতার সাথে চলবে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বিভাগের আশঙ্কা যেহেতু ইসরাইল লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে দেশটির অভ্যন্তরে অবস্থান করা হামাস যোদ্ধাদের উপর হামলা চালিয়ে সাত যোদ্ধাকে হত্যা করেছে বিধায় লেবানন ও ইরানের পক্ষ হতে যে কোন সময়ে ইসরাইলের হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তুরস্ক আবারও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, কোন অবস্থাতেই ইসরাইলকে পার পেতে দেওয়া হবে না। হাজার হাজার ফিলিস্তীনি হত্যার দায়তাকে নিতে হবে ও তাকে তার পরিনতি ভোগ করতে হবে। এদিকে গাজার সকল হাসপাতাল ইসরাইলি বিমান হামলায় ধ্বংস প্রাপ্ত অথবা আধা ধ্বংস প্রাপ্ত হয়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ হয়ে গেলেও উপত্যকাটির একমাত্র হাসপতাল আকসায় চলছিল চিকিৎসা ব্যবস্থা। বিমান হামলায় আহত ফিলিস্তীনিদেরকে উক্ত আল আকসা হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করানো হতো, প্রতিদিনই শত শত আহত ইসরাইল উক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে আসছিল। ফিলিস্তীনিদের একমাত্র আশা ছিল আল আকসা হাসপাতাল কিন্তু উক্ত হাসপাতালেও গতকাল দখলদার ইসরাইলি বাহিনী আল আকসা হাসপাতালে কিন্তু উক্ত হাসপাতালেও গতকাল দখলদার ইসরাইলি বাহিনী আল আকসা হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। মুহুর্তে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন অন্তত ছয়শতাধীক রোগী অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আতঙ্কিত ও চিকিৎসারত ছয় শতাধিক রোগীকে অজ্ঞাত স্থানে রেখে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এদিকে গতকাল লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের সেনা বাহিনীর ঘাটিতে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে উক্ত হামলায় উত্তর ইসরাইলের মাউন্ট মেরন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বেস ক্ষতির মুকে পড়েছে। গতকাল ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বিভাগের আইডিএফের মুখপাত্র বিয়া অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগরি বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেছে, এবার ইসরাইলি এক নাগরিক গাজায় গণহত্যার দায়ে নিজ দেশে ইসরাইলের নামে মামলা করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে হামাস ইসরাইল যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সৌদি আরবের পর এবার জর্দান অতি দ্রুত যুদ্ধ বিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। জর্দানের রাজা দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধ বিরতির আহবান জানিয়েছেন। গাজায় পর্যাপ্ত ত্রান সরবরাহ না থাকায় অর্ধেকের বেশী অধিবাসি ক্ষুধার্থ থাকছে।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

ফেসবুক পেজ এ সব খবর

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার ,দুপুর ১২:১১
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ১২ ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
  • ১৫ শাবান, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন



আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন