২৮ অক্টোবর-২৯ ডিসেম্বর: কী পেল বিএনপি?

আজ ২৯ ডিসেম্বর, সপ্তাহের শেষ কর্ম দিবস। আবহাওয়াটাও বেশ উপভোগ্য। সারাদিন জুড়ে রাজধানী ছিল কর্মচাঞ্চল্য। সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল, আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু ঠিক দুই মাস আগে একই দিনে রাজধানীতে এক নারকীয় তাণ্ডব ঘটেছিল। ওই দিন ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকেছিল বিএনপি। সমাবেশের এক পর্যায়ে তাণ্ডব ও সহিংসতায় মেতে উঠে দলটি। বিএনপির নারকীয় তাণ্ডবে সেদিন এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি পুলিশ সদস্য। তাদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও।

শুধু তাই নয়, পরের দিন সারাদেশে হরতাল ডাকে বিএনপি। এরপর এগারো দফায় অবরোধ ডাকে বিএনপি। কিন্তু তাদের কর্মসূচি খুব একটা চাপে ফেলতে পারেনি সরকারকে। বিএনপি যখন সরকার পতনের আন্দোলনে নানা কর্মসূচি পালন করছে, তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই এগিয়ে যাচ্ছে নির্বাচনের দিকে। আন্দোলন কিংবা নির্বাচন বর্জন -কোন কিছুই দৃশ্যত: চাপে ফেলতে পারেনি সরকারকে। উল্টো মামলা, গ্রেপ্তারসহ নানামুখী চাপে বিপর্যস্ত বিএনপি। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে যে, সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যর্থতা অন্যদিকে নির্বাচনেও অংশ না নেয়া-বিএনপি তাহলে তাদের রাজনীতির কৌশল থেকে থেকে কী পেল?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলনে ব্যর্থতা এবং নির্বাচনেও অংশ না নেয়া—এই দুইয়ের মধ্যে কিছুই পায়নি বিএনপি। বরং এ সময় গ্রেপ্তারসহ নানামুখী চাপে বিপর্যস্ত হয়েছে দলটি। সাংগঠনিক শক্তিও ভেঙ্গে পড়েছে বলা যেতে পারে। কারণ এ সময়ের মধ্যে ২০ জনেরও বেশি বিএনপির কেন্দ্রীয় এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির মধ্যম সারির এক নেতা বলেন, বিএনপির আন্দোলনের কৌশল আরও নমনীয় হতে পারতো। কৌশলগত অবস্থান থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারতো। কিন্তু এর কোনটাই না করে আমরা জনগণের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছি। বিএনপির নির্বাচন না যাওয়ার কৌশল সঠিক নয়। কারণ এলাকার ভোটারদের একটা চাহিদা আছে, সেখানকার একটা রাজনৈতিক বাস্তবতা আছে।

তবে বিএনপির দাবি এ সময়ের মধ্যেও তারা বিপুল জনসম্পৃক্ত হতে পেরেছে। তারা বলছে, আন্দোলনে বিএনপি দৃশ্যমান কি অর্জন করল না করল সেটা মূখ্য বিষয় নয়। তবে আমরা মনে করি না যে আমরা ভুল করছি। আমরা মনে করি বিএনপি সঠিক পথেই ছিল এবং আছে। বিএনপি যেটাকে সঠিক পথ মনে করছে সেটা হচ্ছে আন্দোলন। বিএনপি গত একমাসেরও বেশি সময় ধরে পালন করছে অবরোধ এবং হরতালের মতো কর্মসূচি।

কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচন না করায় দলটির সামনে ভোটারদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। কারণ নির্বাচনে না আসা মানে অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে যাওয়া। একটা হচ্ছে ভোট ব্যাংককে হারিয়ে ফেলা। এটা অনেকভাবেই হতে পারে। ভোটারদের স্মৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া, প্রজন্ম থেকে হারিয়ে যাওয়া। কারণ নতুন প্রজন্ম ১৭ বছর ধরেই বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখেনি।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • সোমবার ,রাত ১১:১১
  • ১৭ জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
  • ৩ আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  • ১১ জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন