শিক্ষার্থীদের ভর্তি ও উপস্থিতিতি বাড়াতে প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে মিড-ডে মিল

সুরাইয়া খাতুন: সাতক্ষীরা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ কাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ চালু রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সানজিদা শাহনাজের উদ্যোগে পারিবারিক অর্থায়নে ভর্তি ও উপস্থিতিতি বাড়াতে নিয়মিতভাবে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত মিড-ডে মিলের মেনু ছিল সিদ্ধ ডিম ও বন রুটি। এছাড়াও সবজি খিচুড়ি, খিচুড়ি ডিম, মাংস, কলা, পাউরুটি ও সিদ্ধ ডিম দেওয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা বানু, শামসুন্নাহার, ছাবিরা আক্তার, জামিলা খাতুন, হাফিজা খাতুন এবং দপ্তরী কাম প্রহরী আলামিন ইসলাম। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, মিড-ডে মিল চালু হওয়ার আগে গড় উপস্থিতি ছিল ৬০-৬৫ শতাংশ, এখন তা বেড়ে ৯০ শতাংশেরও বেশি। একই সঙ্গে ঝরে পড়ার হারও কমেছে। বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ১৬০ জন শিশু পড়াশোনা করছে। তাদের মধ্যে অনেকের পরিবার আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান নয়। আগে অনেক শিশু নিয়মিত স্কুলে আসত না। প্রধান শিক্ষকের এই উদ্যোগে এখন শিশুরা পুষ্টিকর খাবারের জন্যও নিয়মিত স্কুলে আসে, পড়াশোনায় মনোযোগও বেড়েছে। প্রধান শিক্ষকের বড় ভাই ডা. মেহেদী নেওয়াজ, অর্থোপেডিক সার্জন এবং প্রাক্তন উপাধাক্ষ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মরত, বর্তমানে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্বে আছেন।

তিনি মিড-ডে মিল কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন। বিদ্যালয়ের অভিভাবকরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। একজন অভিভাবক বলেন, “আগে বাচ্চারা স্কুলে যেতে চাইতো না, এখন খাবারের জন্য হলেও নিয়মিত যায়। পড়াশোনাতেও আগ্রহ বাড়েছে।” বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জানান, মিড-ডে মিল কার্যক্রম শুধু পুষ্টি নয়, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশকে প্রাণবন্ত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও অংশগ্রহণও বাড়াচ্ছে। প্রধান শিক্ষক সানজিদা শাহনাজ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের পুষ্টি দেওয়া নয়। আমরা চাই, তারা নিয়মিত স্কুলে আসুক, পড়াশোনায় আগ্রহী হোক এবং স্বাস্থ্যবান হোক। এই ছোট্ট উদ্যোগ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তা করছে। ভবিষ্যতে আরও পুষ্টিকর এবং বৈচিত্র্যময় খাবারের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।” দেশের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছিলেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, পরবর্তী পর্যায়ে তা দেশের সব সরকারি স্কুলে বাস্তবায়ন করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করছে না, বরং পড়াশোনার মানও উন্নত করছে এবং স্কুলে নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াচ্ছে।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • রবিবার ,সকাল ৬:১৭
  • ৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ২২ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  • ১৭ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন