রফতানিতে অদৃশ্য বাধা, সংকটে ‘সোনালী আঁশ’— আট মাস কাঁচাপাট রফতানি বন্ধে উদ্বেগ

খুলনা ব্যুরো: দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে কাঁচাপাট রফতানি বন্ধ থাকায় দেশের পাট খাতে গভীর সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও রফতানিকারকরা। তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান দুর্বল হওয়া এবং শিল্পে আর্থিক চাপ বাড়ায় ‘সোনালী আঁশ’ খ্যাত পাট খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) অভিযোগ করেছে, কাঁচাপাট রফতানিতে আরোপিত শর্ত ও নীতিগত জটিলতার কারণে রফতানি কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থবির রয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এতে দেশের রফতানিকারকরা প্রায় ১৫–২০ লাখ বেল কাঁচাপাট অবিক্রিত অবস্থায় গুদামে রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিজেএ নেতারা বলছেন, প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত কাঁচাপাট রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ১৫০০–২০০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে। তবে রফতানি বন্ধ থাকায় এই আয় থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে এবং ব্যাংক ঋণ, গুদাম ভাড়া ও শ্রমিক ব্যয়ের চাপ বাড়ছে।

অন্যদিকে, নীতিগত সিদ্ধান্তের পেছনে শিল্পস্বার্থ জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী প্রশাসনের সময় নেওয়া কিছু সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়েছে, যার প্রভাব এখনো চলমান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বাধীন যাচাইযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৭০–৮০ লাখ বেল পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে ৪৫–৫০ লাখ বেলের চাহিদা থাকে স্থানীয় মিলগুলোতে, আর ১০–১৫ লাখ বেল সাধারণত রফতানি করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, আঞ্চলিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণেও পাট রফতানি কিছুটা চাপে রয়েছে। খুলনার শ্রমিক নেতারা বলছেন, রফতানি সংকটের প্রভাব সরাসরি কর্মসংস্থানে পড়েছে। দৌলতপুর জুট প্রেস ও বেলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মিঠু জানান, অনেক শ্রমিক এখন বিকল্প পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

খুলনা প্রেস অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আক্তার হোসেন ফিরোজ বলেন, পাট প্রেস ও সংশ্লিষ্ট খাতে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন এবং অনেক ইউনিট কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর দাবি করেন, দ্রুত নীতি পরিবর্তন না হলে শিল্প আরও ক্ষতির মুখে পড়বে এবং শ্রমিক অসন্তোষ বাড়তে পারে। তিনি কাঁচাপাট রফতানিতে আরোপিত শর্ত প্রত্যাহার করে বাজারকে স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি নীতিগত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যবসায়ী নেতারা। সব মিলিয়ে কাঁচাপাট রফতানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশের পাট খাত ও সংশ্লিষ্ট শ্রমবাজার আরও সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

খুলনার সময়

একটি সৃজনশীল সংবাদপত্র

আমাদের ফেসবুক পেজ

আজকের দিন-তারিখ

  • শুক্রবার ,বিকাল ৫:৩১
  • ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
  • ১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
  • ২৮ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন