
রিয়াদ হোসেন: সমাজে প্রচলিত আছে, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। আবার অনেকে বলেন, রাজনীতির মাঠে যেকোনো সময় যে কেউ বন্ধু বা শত্রুতে পরিণত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ছাত্র সংগঠনের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে খুলনায় এমনই এক নাটকীয় ঘটনার জন্ম হয়েছে। খুলনা জেলা ছাত্রদলের নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নবনির্বাচিত আহ্বায়ক ফিরোজ আহমেদকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মূলত একটি ‘মজার ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করেই এমনটি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ৩০ সদস্যবিশিষ্ট খুলনা জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পরদিন থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হতে দেখা যায়। সেখানে অব্যাহতি পাওয়া ফিরোজ আহমেদকে মধ্যপ অবস্থায় আম খেতে দেখা যায় এবং ভিডিওতে তাকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতেও শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরোজ আহমেদকে অব্যাহতি দিয়ে কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফরকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এদিকে কমিটি ঘোষণার পর থেকেই ফিরোজ ইস্যুতে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একাংশের দাবি, ভিডিওতে ফিরোজের বক্তব্য ও আচরণ সংগঠনের ভাবমূর্তির পরিপন্থী হওয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঘটনার প্রেক্ষাপট ও স্থানীয় পর্যায়ের অনেকের দাবি, ভিডিওটি সম্পূর্ণ চিত্র তুলে না ধরে আংশিক বা খণ্ডিতভাবে ছড়ানো হয়েছে। এটি একটি নিছক মজার বা ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও হতে পারে; যা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তাদের দাবি, ফিরোজ আহমেদ বিভিন্ন সময় সামাজিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে কখনো পুরনো কাপড় বিক্রেতা, ফুটপাতে ফল বিক্রেতা, মাছ বিক্রেতা কিংবা পান বিক্রেতার বেশে নিজেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উপস্থাপন করেন, যা তিনি নিতান্তই মজার ছলে করে থাকেন। এমন বেশ কিছু ভিডিও আগে থেকেই তার ব্যক্তিগত প্রোফাইলে রয়েছে।
এ বিষয়ে ফিরোজ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি লেখালেখি, আবৃত্তি এবং পথশিশুদের নিয়ে কাজ করে থাকেন। তিনি দাবি করেন, কখনো কখনো মজার ছলে মানুষের সঙ্গে মিশে ভিন্ন ভিন্ন পেশার অভিনয়ধর্মী কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিও তেমনই একটি অভিনয় বা ‘মজার ভিডিও’ ছিল।
তিনি আরও বলেন, একজন ছোট ভাই মজার ছলে ভিডিওটি করেছিল। এখন সেটিকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি আরও জানান, জীবনে কখনো সিগারেটও স্পর্শ করেননি এবং সত্যতা প্রমাণে তিনি যেকোনো সময় ‘ডোপ টেস্ট’ করাতেও প্রস্তুত।
তবে দিনশেষে একজন রাজনৈতিক কর্মীর ব্যক্তিজীবন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কর্মকাণ্ড অনেক সময় ভুল বোঝাবোঝির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে ফিরোজ আহমেদের ডোপ টেস্ট দেওয়ার চ্যালেঞ্জ এবং তার পূর্বের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক ভূমিকা যদি প্রমাণিত হয়, তবে এই সংকট কাটিয়ে তাকে আবারও মূলধারার রাজনীতিতে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।